ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬ ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
আলী নগরে যৌথবাহিনীকে শায়েস্তা করতে স্কুলের পানিতে ‘বিষ’!
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 27 July, 2026, 1:54 PM
সর্বশেষ আপডেট: Monday, 27 July, 2026, 2:06 PM

আলী নগরে যৌথবাহিনীকে শায়েস্তা করতে স্কুলের পানিতে ‘বিষ’!

আলী নগরে যৌথবাহিনীকে শায়েস্তা করতে স্কুলের পানিতে ‘বিষ’!

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলী নগরে এবার যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে পানির লাইন কেটে ‘বিষাক্ত তরল’ ঢেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

আলী নগর স্কুলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের সদস্যরা রোববার (২৬ জুলাই) সকালে পানি ব্যবহার করতে গেলে অস্বাভাবিক গন্ধ পান। কয়েকজন ওই পানি মুখে দেওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

পরে পানির নমুনা সংগ্রহ করে যাচাইয়ের জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয় বলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক জানান।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “যারা ওই পানি দিয়ে কুলকুচি করেছিল এবং চোখে মুখে পানি দিয়েছিল তাদের পেটের পীড়া ও চোখ জ্বলেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

নাজিমুল হক বলেন, আলী নগরে রাস্তার পাশ দিয়ে সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পানির লাইন গিয়েছে। সংযোগস্থল থেকে বিভিন্ন বাসা ও স্কুলে আলাদা আলাদা পাইপ দিয়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল।

“যে লাইনটি আলী নগর স্কুলে প্রবেশ করেছে সেটি কাটা পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা, লাইন কেটে সেখানে বিষাক্ত তরল জাতীয় কিছু দেওয়া হয়েছে, সেটা পানির সাথে ট্যাঙ্কে মিশে গেছে।”

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানায়, রোববার পানিতে গন্ধ পেয়ে সেখানে থাকা সদস্যরা পানির ট্যাঙ্ক খুলে দেখতে পান পানিতে তীব্র গন্ধ ও ফ্যানা হয়ে গিয়েছিল। এরপর প্রতিটি পানির কল বন্ধ করে দেন তারা।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, “পানিতে গন্ধ ও ফ্যানা দেখার সাথে সাথেই আমরা সেটা স্কুলের শিক্ষকদের জানিয়ে দিয়েছিলাম। স্কুলের শিক্ষার্থীদের সকল বাথরুমও আটকে দিয়েছি, যাতে কোনো শিক্ষার্থী এ পানি ব্যবহার করতে না পারে। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়নি।”

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর ও আলী নগরকে বলা হত রাষ্ট্রের ভেতর আলাদা আরেক রাষ্ট্র। দখলদারদের অনুমতি ছাড়া সেখানে কেউ প্রবেশ করতে সাহস করতেন না।

২০২২ সালে ওই খাস জমি দখলমুক্ত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, ইকো পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে বারে বারে বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ বছর ১৯ জানুয়ারি র‌্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে সেখানে অভিযানে যায়। সেখানে ‘মাইকে ঘোষণা’ দিয়ে র‌্যাব সদস্যদের ঘিরে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। তাদের পিটুনিতে নিহত হন র‌্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।

এরপর গত ৯ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তিন হাজার ১৮৩ জন সদস্যকে নিয়ে সেখানে অভিযানে যায় স্থানীয় প্রশাসন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৮৭, বিজিবি ১২২ জন, র‌্যাবের ৩৭১ জন সদস্য ছিলেন। তিনটি হেলিকপন্টার, ১৫টি এপিসি, ডগ স্কোয়াড, ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয় অভিযানে।

অভিযানের পর আলী নগর স্কুলে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। যেখানে পুলিশ, এপিবিএন, আরআরএফ, র‌্যাবের শতাধিক সদস্য অবস্থান করেন। আলী নগর স্কুল থেকে কয়েকশ গজ দূরে পূর্ব দিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য আলাদা একটি ক্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে।

গত ২৪ মে গভীর রাতে ক্যাম্পে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ভেঙে দেয়া হয় নির্মাণাধীন ক্যাম্প। ওইদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সন্ত্রাসীদের বেশকিছুক্ষণ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজনদের ভাষ্য, ২০০২-০৩ সাল থেকে সেখানে বসতি শুরু হয়। জঙ্গল ছলিমপুরের পুরো ছিন্নমূল এলাকাকে ১১টি ‘সমাজে’ ভাগ করা হয় ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য।

আর আলীনগর এলাকাটি ‘আলী নগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে পরিচালিত হলেও তার পুরো আসলে মোহাম্মদ ইয়াছিন নামে এক ব্যক্তির হাতে।

আলী নগরে যেসব প্লটের লোকজন এলাকায় বসবাস করেন, তাদের প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে সমিতির তহবিলে জমা দিতে হয়। যেসব প্লটের দখলদারদার সেখানে অবস্থান করেন না, তাদের মাসে দিতে হয় ১০০ টাকা করে।

এছাড়া সমিতিকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রতিটি আবাসিকে দিতে হয় প্রতি ইউনিটে ১২ টাকা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৩ টাকা করে।

একদিন পরপর বিভিন্ন বসত ঘরে পানি দেওয়া হয়। যাদের ঘরে এক হাজার লিটারের পানির ট্যাংক আছে, তাদের মাসিক পানির বিল দিতে হয় ১৫০০ টাকা; আর অন্যদের দিতে হয় ৮০০ টাকা করে।

মূলত গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেখানে পানি সরবরাহ করা হয়। সে পানির নলকূপটি সমিতির কার্যা্লয়ের ভেতরে। সেখানে থেকে পানির সংযোগ বের করে পুরো এলাকায় পানির সরবরাহ করা হয়।

ক্যাম্পের পানিতে বিষক্রিয়ার ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন।

তিনি বলেছেন, ‘অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রমের’ ধারায় মামলাটি করা হবে।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status