|
মশা মারতে অনিয়মের অভিযোগ, ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মশা মারতে অনিয়মের অভিযোগ, ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, কীটনাশক সরবরাহকারী ঠিকাদার ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনালকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘নিয়ম ভাঙার আলামত’ পেয়েছেন তারা। বুধবার এ অভিযানে কীটনাশক কেনা ও পরীক্ষার নথির পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহের বিলসংক্রান্ত কাগজপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, অভিযোগগুলো যাচাই করতেই অভিযান চালাচ্ছে তাদের একটি দল। অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্য দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, কীটনাশক যখন টেস্ট করা হয়, সেখানে প্রতিবারই তাদের নমুনা ছিল কিউলেক্স মশা। ডেঙ্গুর জন্য আমরা জানি এইডিস মশা দায়ী। সেক্ষেত্রে আসলে এটা এইডিস মশার জন্য কতটুকু কার্যকর, সেটা ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে জানা যেতে পারে। এ বিষয়ে ঠিকাদার কোম্পানি ও সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো যোগসাজশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে অভিযানকারী দল। অভিযানের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কীটনাশক পরীক্ষা করতে বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়েছে। বাংলাদেশ রোগতত্ত্ব গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআরবি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন স্পেশালিস্টকে ডেকেছি। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যেই পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করা হবে। তারা যদি মতামত দেয়, তাহলে আমরা ওষুধগুলো ব্যবহার করব। তা না হলে ওষুধগুলো আমরা ফিরিয়ে দেব। দুদকের কাছে অভিযোগ ছিল, এইডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য মানসম্মত কীটনাশকের বদলে ফগার মেশিনে কেরোসিন ব্যবহার করা হয়েছে। যে অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অভিযান পরিচালনা করেছে, তাতে বলা হয়েছে, আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের ঘটনায় ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’ নামে একটি কোম্পানি কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল। পরে ওই কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মিজানুর রহমান ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে কোম্পানি খুলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কাজ নেন। গত দুই বছরে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে ওই কোম্পানিকে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে তারা কাজ পেয়েছে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নথিপত্র পরীক্ষা করছে দুদক। দুদকের হাতে অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার সময় মানসম্মত কীটনাশক দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের সময় তার বদলে কেরোসিন ব্যবহার করা হয়েছে। মশক নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের স্টোর ও হিসাব শাখার কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। মশার ওষুধের পাশাপাশি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদক। সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী ও যাত্রাবাড়ী এলাকার নাম এসেছে। দরপত্রে কাজ পাওয়া ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও দুদকের কাছে এসেছে। অভিযানের সময় এসব অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিল ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করেছে দুদকের দল। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
