|
মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ, টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ, টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু নরওয়ের জাতীয় অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং পিএসটি সিকিউরিটি সার্ভিস গত মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এই মামলায় টেলিনরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার অসলোতে টেলিনর সদর দপ্তরে অভিযানও চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মিয়ানমারে জান্তা সরকার যখন বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালাচ্ছিল, সে সময় টেলিনর তাদের সহযোগিতা করেছে। তারা গ্রাহকদের যোগাযোগের কল ইতিহাস বা ট্রাফিক ডেটা জান্তা সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিল। এদিকে ২০২২ সালের মার্চ মাসে মিয়ানমার থেকে পুরোপুরি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া টেলিনর বলেছে, তারা তদন্তকারীদের পূর্ণ সহযোগিতা করছে। পুরো ঘটনাটি ‘পরিষ্কার’ করতে তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে। তবে নরওয়ে পুলিশ বলছে, টেলিনরের মিয়ানমারের ব্যবসা বিক্রির চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নজরদারি সরঞ্জাম হস্তান্তর অন্তর্ভুক্ত ছিল। নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই লেনদেনের আগাম অনুমতি না নেওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে সুইডেনের একটি অলাভজনক সংস্থা টেলিনরের বিরুদ্ধে একটি ‘ক্লাস অ্যাকশন ল্য সুইট’ মামলা করে। এটি এমন দেওয়ানি মামলা, যেখানে একজন ব্যক্তি বা একটি ছোট দল একই ধরনের সমস্যা বা ক্ষতির শিকার হওয়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, টেলিনর মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কল রেকর্ড এবং লোকেশন ডাটা সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল। এর ফলে অন্তত একজন অ্যাক্টিভিস্টের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এদিকে অভিযোগে বিষয়ে টেলিনর রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, সামরিক অভ্যুত্থানটি মিয়ানমারের জনগণের জন্য একটি ট্র্যাজেডি ছিল, যা আমাদের এমন অসম্ভব পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছিল যে, আর কোনো ভালো বিকল্প ছিল না। “সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না মানলে কর্মীরা কারাদণ্ড, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তেন। আমরা বুঝতে পারছি যে আমাদের সামনে কোনো বাস্তব বিকল্প ছিল না এবং আমরা আমাদের কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। টেলিনর বলছে, এখন পর্যন্ত কোম্পানির কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি বা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে তদন্তের আওতায় আনা হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অসলোতে অবস্থিত মায়ানমার দূতাবাসে ই-মেইল করা হলে তারাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর দেয়নি। অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’-এর মুখপাত্র ইয়াদানার মং রয়টার্সকে বলেন, মিয়ানমারে আইন লঙ্ঘনের জন্য টেলিনরের বিরুদ্ধে অবশেষে তদন্ত শুরু করতে নরওয়েজিয়ান পুলিশের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
