ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ আশ্বিন ১৪৩৩
কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কাজে ডাক পড়ে দুই নারী কর্মচারীর
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Wednesday, 16 September, 2026, 8:33 PM

কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কাজে ডাক পড়ে দুই নারী কর্মচারীর

কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কাজে ডাক পড়ে দুই নারী কর্মচারীর

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে চাকরি করলেও দুই নারী কর্মচারীকে দিয়ে বাসায় ব্যক্তিগত কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে।

তাদের ব্যক্তিগত কাজে দুই নারী কর্মচারী অনীহা প্রকাশ করলে তাদের চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, পৌরসভার অফিস সহায়ক রিতা রানী প্রতিদিন সকালে পৌরসভা কার্যালয়ে হাজিরা দেওয়ার পর প্রশাসকের বাসায় যান। সেখানে কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর দুপুর ১টার দিকে তিনি আবার পৌরসভা কার্যালয়ে ফিরে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অফিস সহায়ক রিতা রানীকে নিয়মিত এবং অপর অফিস সহায়ক নাসিমা বেগমকে মাঝেমধ্যে প্রশাসকের বাসায় কাজ করতে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রিতা রানী প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অফিসে গিয়ে হাজিরা দেন। এরপরই তিনি পৌর প্রশাসকের বাসায় চলে যান। প্রশাসকের বাসায় কাজ শেষ করে প্রতিদিন দুপুর ১টার দিকে তিনি আবার পৌরসভা কার্যালয়ে ফিরে যান।

দুপুর ১টার দিকে তাকে পৌরসভা কার্যালয়ে ঢোকার সময় কথা বললে রিতা রানী জানান, তিনি প্রশাসকের বাসা থেকেই ফিরেছেন। সপ্তাহে কত দিন এভাবে কাজ করতে হয়— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিদিনই যেতে হয়। না গেলে চাকরি থাকবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, অফিস সহায়ক পদে নিয়োজিত কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাসার কাজে পাঠানো হচ্ছে। এতে একদিকে দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে কর্মচারীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ওই কর্মচারীর দাবি, প্রতিদিন রিতা রানীকে প্রশাসকের বাসায় পাঠানো হয়। তিনি যেতে না চাইলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। অনেক সময় রিতা রানী ও নাসিমা বেগম— দুজনকেই একসঙ্গে বাসায় কাজ করতে যেতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশাসক ছোট একটি মেয়েকে নিয়ে একা থাকেন। তার বাসায় স্থায়ী গৃহকর্মী থাকলেও মাঝেমধ্যে প্রশাসকের অনুরোধে রিতা রানীকে শিশুটির দেখাশোনার জন্য পাঠানো হয়। তবে চাকরিচ্যুত করার হুমকির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক লাকি দাসও ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, মাঝেমধ্যে রিতা রানীকে তার বাসায় নেওয়া হয়। তিনি বলেন, তিনি ছোট একটি সন্তানকে নিয়ে একা থাকেন। বাসায় স্থায়ী গৃহকর্মী থাকলেও প্রয়োজনের সময় রিতা রানীকে মেয়ের দেখাশোনার জন্য ডাকা হয়।

অফিসের কর্মচারীকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা বিধিসম্মত কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নিয়মসম্মত নয়। তবে পরিস্থিতির কারণে মাঝেমধ্যে এমনটি করতে হয়েছে। সাংবাদিকদের আপত্তির পর তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করাবেন না বলেও জানান।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বিষয়টি মানবিক দিক থেকেও দেখা যেতে পারে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একা থাকেন এবং তার ছোট সন্তান রয়েছে। তবে পৌরসভা উপজেলা প্রশাসনের অধীন নয়। সে কারণে এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে চান না। তবে সহকর্মী হিসেবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেবেন বলে জানান।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status