|
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা, জলবায়ু অর্থায়ন ও বৈশ্বিক নেতৃত্বে নতুন সম্ভাবনার দ্বার
সায়ীদ আবদুল মালিক
|
![]() রোহিঙ্গা, জলবায়ু অর্থায়ন ও বৈশ্বিক নেতৃত্বে নতুন সম্ভাবনার দ্বার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্জনের ফলে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু অর্থায়ন, এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক চাকরির বাজার এবং গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্ব, এই পাঁচ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন ড. খলিলুর রহমান। ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা ও কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়বে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও প্রো-ভিসি (প্রশাসন) ড. কামাল উদ্দিন বলেন, এ নির্বাচন বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন। এটি বিশ্বশান্তি, উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বের সুযোগকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অর্থায়নের প্রশ্নে বাংলাদেশ এ অবস্থানকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে সোচ্চার। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সময়কালে বাংলাদেশ প্রায় ৯ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন পেয়েছে। তবে এর বড় অংশই ঋণভিত্তিক। অনুদানের তুলনায় ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় ‘ন্যায্য হিস্যা’ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ফলে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন ও ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিলের দাবিতে নতুন করে জোরালো ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটেও নতুন কূটনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ও সহায়তা ক্রমেই কমে আসার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে নতুন করে বৈশ্বিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রাক্কালে বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এ পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের নেতৃত্বের সুযোগ বাড়বে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন না; তাকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হয়। ফলে জাতীয় স্বার্থে সরাসরি পদটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তবে দক্ষ কূটনীতি ও কার্যকর নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলোকে বৈশ্বিক এজেন্ডার অংশ করা সম্ভব। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ আশিক রহমান বলেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতি বৈশ্বিক আলোচনার এজেন্ডা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু অর্থায়নসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি কূটনৈতিক মর্যাদাই নয়; বরং বৈশ্বিক পরিসরে ন্যায্য অধিকার, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক, ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে
কিশোরগঞ্জের অষ্ট্রগ্রামে কবরস্থানের ওপর বিএনপির কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে
বাগমারায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে পুলিশের অভিযান, উদ্ধার ৪ মোটরসাইকেল
কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদের ভাঙ্গন প্রতিরোধের দাবিতে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী
