|
কক্সবাজারে কোরবানির পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত খামারিরা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() কক্সবাজারে কোরবানির পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত খামারিরা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে বর্তমানে খামারের সংখ্যা ৮ হাজার ২৮৭টি। এসব খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩টি পশু। এর বিপরীতে জেলার সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৯২টি। ফলে উদ্বৃত্ত থাকছে ২৪ হাজার ৭৭১টি পশু। প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৬৩ হাজার ১৩৯টি ষাঁড়, ২৪ হাজার ২৮৩টি বলদ, ১৬ হাজার ৪৫১টি গাভী, ৬ হাজার ২৭৯টি মহিষ, ৩৩ হাজার ৫৫২টি ছাগল, ১৪ হাজার ৪৬৩টি ভেড়া এবং অন্যান্য ১৫টি পশু। জেলার বিভিন্ন খামারে এখন থেকেই শুরু হয়েছে কোরবানির পশু বিক্রি। অনেক ক্রেতা পছন্দের পশু আগাম কিনে বুকিংও দিচ্ছেন। ঈদগাঁওয়ের রশিদনগর ইউনিয়নের খামারি শহিদুল ইসলাম জানান, তাঁর খামারে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি গরু রয়েছে। গত বছর ছিল ৩৯টি। গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার গরুর সংখ্যা কমাতে হয়েছে। তিনি বলেন, খামারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবার গরুর সংকট দেখা দিতে পারে। তাই গত বছরের তুলনায় দামও বাড়বে। একই ইউনিয়নের পূর্ব নুনাছড়ি এলাকার যৌথ খামারি ডালিম ও শাকিল জানান, তাঁদের খামারে প্রায় ৫০টি গরু রয়েছে। খামারের কোনো গরুর দাম ৩ লাখ টাকার নিচে নয়, আর সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ৮ লাখ টাকা। তাঁরা বলেন, গো-খাদ্যের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। গম, ভুট্টা ভাঙা, খৈল ও ভূষির দাম মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। খামারিরা বলছেন, বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে উৎপাদন খরচও উঠবে না। অনেকে ঋণ নিয়ে খামার পরিচালনা করছেন। ফলে কম দামে বিক্রি করতে হলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে। রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের খামারি হেলাল উদ্দিন জানান, তাঁর খামারে বর্তমানে ১৫টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি বাজারে তোলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, ৫ মন ওজনের একটি ষাঁড়ের দাম চেয়েছি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর ৩ থেকে ৪ মন ওজনের গরু ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হতে পারে। উখিয়ার খুনিয়াপালং এলাকার খামারি জাকির হোসেন বলেন, অভাবের কারণে গত মাসেই তিনটি গরু বিক্রি করেছি। এখন আগের মতো খালি জমি বা ঘাস নেই, আবার খাদ্যের দামও বেড়েছে। গরু পালন কঠিন হয়ে গেছে। ২০২৬ সালের মে মাসের বাজারদর অনুযায়ী ভুট্টার গুঁড়া কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, গম ভাঙা ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, গমের ভুষি ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং খৈল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২৫ কেজির ক্যাটল ফিডের বস্তা ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খামারিদের দাবি, খাদ্য, শ্রমিক ও লালন-পালনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবারের কোরবানির পশুর দাম কিছুটা বেশি থাকবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকবে। বিশেষ করে ২ থেকে ৩ মন ওজনের গরুর বাজার ভালো হতে পারে। বড় গরুর প্রতি আগ্রহ তুলনামূলক কম। বাহারছড়া এলাকার কোরবানিদাতা আবুল শামা বলেন, এখনও হাটে যাইনি। তবে শুনছি গরু ও মহিষের দাম অনেক বেশি। পূর্ব কলাতলী এলাকার হাসান আলি বলেন, ৬ মন ওজনের একটি বলদ গরু পছন্দ করেছি। দাম চাচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগেও এই সাইজের গরু ২ লাখ টাকার মধ্যেই পাওয়া যেত। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ. এম. খালেকুজ্জামান বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কেউ ক্ষতিকর পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি পশুর হাটে মেডিকেল টিম থাকবে, যাতে অসুস্থ পশু বিক্রি না হয়। অন্যদিকে পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা এবং চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
