ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১ মার্চ ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২
কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথে কেন ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 28 February, 2026, 7:11 PM

কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথে কেন ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল?

কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথে কেন ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ এড়ানোর কূটনৈতিক চেষ্টার মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। আজ শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া আটটায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। এর কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, দেশের ওপর থেকে 'হুমকি সরাতে' তারা ইরানের ওপর 'প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক' চালিয়েছেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে যখন জেনেভায় দুই দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহেও এই আলোচনা চলার কথা ছিল।

আলোচনায় ইরান কিছুটা নমনীয় হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকালই জানিয়েছিলেন, আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তিনি মোটেও 'খুশি' নন। এর আগে তিনি ইরানকে চুক্তি মানতে বাধ্য করতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।

তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখনই কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই তা নসাৎ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজ'-এর পরিচালক ও জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেহরান কামরাভা এমনটাই মনে করেন। তার মতে, এবারের হামলাটি কেবল সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে আলোচনার পথ বন্ধ করার একটি বড় কৌশল।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কামরাভা বলেন, 'গত জুনের মতোই এবারও হামলা চালিয়ে ইসরায়েল মূলত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা ভেস্তে দিতে চাইছে। তারা বরাবরই এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগের ঘোর বিরোধী।'

তিনি মনে করেন,  ট্রাম্প নিজেই নিজেকে এক 'কোণঠাসা' পরিস্থিতিতে নিয়ে গেছেন, যেখান থেকে ফিরে আসার পথ এখন আর নেই। মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল নৌবহর বা 'আর্মাডা' পাঠানো এবং গত দেড় বছর ধরে ইসরায়েলকে সব কাজে একের পর এক 'সবুজ সংকেত' দেওয়ার ফলে ট্রাম্প এখন নিজের জালে নিজেই আটকা পড়েছেন।

'ইসরায়েল আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত বেঁধে দিয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে তিনি দাঁড়িয়েছেন যে, ইসরায়েলকে এই মুহূর্তে না বলার ক্ষমতা তার নেই।'

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে এবারই সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন এমন সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ইরানও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামলা হলে তারা শক্তি দিয়ে তার কড়া জবাব দেবে।

গত জুনেও ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল, যা পরে ১২ দিনের যুদ্ধে রূপ নেয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের পক্ষে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তার দেশের জন্য বড় হুমকি। তিনি এমন কোনো চুক্তির বিরোধী, যেখানে কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হয় এবং ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

তবে ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার প্রস্তাব শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো—যেমন গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সহায়তা বন্ধের দাবিও নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। তাদের দাবি, এসব দাবি মেনে নেওয়া মানে দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status