|
মোদির ইসরায়েল সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() মোদির ইসরায়েল সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ কার সঙ্গে বৈঠক, কী আছে এজেন্ডায়: গতকাল দুপুরে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুই নেতা বৃহস্পতিবার বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে যৌথ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা চূড়ান্ত করতে পারেন। মোদি সফরের প্রথমদিন জেরুজালেমে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দেন। এরপর রাতে ফেরেন তেল আবিব। বৃহস্পতিবার সকালে হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ ইয়াদ ভাশেম পরিদর্শন করবেন। পরে তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এদিন নেতানিয়াহু ও মোদির বৈঠক হবে। এতে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে—এর মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও বাণিজ্য সহজীকরণ। গত বছর দুই দেশ একটি দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি সই করেছে; এ বছর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। ইসরায়েল ভারতীয় অবকাঠামো কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী, আর ভারত ইসরায়েলের উচ্চপ্রযুক্তি দক্ষতাকে কাজে লাগাতে চায়। তবে মোদির সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উদ্ভাবন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে অগ্রাধিকার বলে জানা গেছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিবর্তন: ঔপনিবেশিক যুগে ভারত ফিলিস্তিনি স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাও করেছিল নয়াদিল্লি; ১৯৯২ সালে তাদের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তবে ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক নতুন গতি পায়। বর্তমানে এশিয়ায় চীনের পর ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ভারত। ১৯৯২ সালে যেখানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল প্রায় ২০ কোটি ডলার, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারে। ভারতের রপ্তানির মধ্যে রয়েছে রত্ন-গহনা, রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম; আমদানিতে আছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারত ইসরায়েলের অন্যতম বড় অস্ত্র ক্রেতা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, উভয় দেশই নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বয়ানের ওপর জোর দিয়ে নীতিগত ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। আঞ্চলিক রাজনীতির জটিলতা: মোদির সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন পশ্চিম তীর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের সমালোচনা বাড়ছে। সম্প্রতি ১০০টির বেশি দেশের সঙ্গে ভারতও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কার্যক্রমের নিন্দা জানানো এক বিবৃতিতে সই করেছে। এদিকে নেতানিয়াহু একটি নতুন আঞ্চলিক জোট—সম্ভাব্য ‘হেক্সাগন’ উদ্যোগ গঠনের কথা বলেছেন, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে ইসরায়েল, ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের নাম উঠে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক সমর্থন এখনো স্পষ্ট নয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাও বাড়ছে। ইরানের চাবাহার বন্দর উন্নয়নে ভারতের বিনিয়োগ এবং রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ—সব মিলিয়ে নয়াদিল্লিকে সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর: এনডিটিভি নিশ্চিত হয়েছে যে, এবার মোদির সফরে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে যাচ্ছে। এ চুক্তিতে ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ইসরায়েলের সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য ছয়টি বোয়িং ৭৬৭ যাত্রীবাহী বিমানকে সামরিক জ্বালানি ভরার বিমানে রূপান্তর করবে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে। ৮০০০ কোটি টাকার এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারতীয় বিমানবাহিনীর দীর্ঘদিন ধরে ট্যাংকার জেটের প্রয়োজন ছিল। কৌশলগত গভীরতা—প্রতিরক্ষা ও উচ্চপ্রযুক্তিতে যৌথ প্রকল্প দুই দেশের নিরাপত্তা স্থাপত্যকে আরও ঘনিষ্ঠ করবে। অর্থনৈতিক গতি—এফটিএ হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় উল্লম্ফন সম্ভব। ভূরাজনৈতিক বার্তা—পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে ইসরায়েলের জন্য ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের প্রকাশ্য সমর্থন কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের ভারসাম্যনীতি—ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেও আরব দেশ ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক সামলানো নয়াদিল্লির জন্য বড় পরীক্ষা। সব মিলিয়ে মোদির এবারের ইসরায়েল সফর কেবল দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত শক্তির সমীকরণে ভারতের অবস্থান ও অগ্রাধিকারেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
