|
বাকৃবিতে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংসের গুণমান উন্নয়নে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() বাকৃবিতে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংসের গুণমান উন্নয়নে কর্মশালা অনুষ্ঠিত বুধবার (১৩ মে) বিকাল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের ডিন কনফারেন্সে হলে ‘ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস: সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য একটি পুষ্টিকর উদ্যোগ’ শীর্ষক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ও বাউরিকের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউরিকের আরএলসি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পশুপালন অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির। জানা যায়, ‘বৃহৎ পরিসরে ব্রয়লার উৎপাদনের জন্য খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও সময় নির্ধারণের বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংসের মানোন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ব্রয়লারের মাংস নিয়ে গবেষণা করেছেন বাকৃবির একদল গবেষক। এক বছর মেয়াদি গবেষণায় প্রধান গবেষক হিসেবে আছেন বাকৃবির এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির। এছাড়া সহযোগী গবেষক হিসেবে আছেন এনিমেল সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ মোর্শেদ, এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো অলিয়ার রহমান এবং আপিজ সেইফ ফুড এগ্রো লিমিটেডের মোহাম্মদ আহসান হাবীব। গবেষণার প্রকাশনায় রয়েছে বাকৃবি রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন সেন্টার (বাউরিক)। অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে আছে বিশ্বব্যাংক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ইনহেন্সিং ডিজিটাল গভার্নমেন্ট ইকোনমি (ইডিজিই) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির বলেন, বর্তমানে ব্রয়লার মাংসে ওমেগা-৩ এর ঘাটতি রয়েছে, যা আমাদের শরীরকে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কের বিকাশে বিলম্ব এবং রোগ প্রতিরোধে দুর্বলতার ঝুঁকিতে ফেলে। তাই আমাদের গবেষণার লক্ষ্য হলো ব্রয়লার মাংসকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডে সমৃদ্ধ করা, যা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকারী চর্বি। একই সাথে খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাংসের স্বাদ ও গুণমান বজায় রাখতে কাজ করেছি। এজন্য ব্রয়লার খাদ্যে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ উপাদান (ফ্ল্যাক্সসিড, মাইক্রোঅ্যালগি) সংযুক্ত করে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খাওয়ানোর মাধ্যমে মাংসে ওমেগা-৩ এর পরিমাণ বাড়ানোর কাজ করেছি। কারণ ওমেগা-৩ সমৃ্দ্ধ মাংস হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, শিশুর মস্তিষ্ক গঠন, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনে সহায়ক। তিনি আরও বলেন, বাজারে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংসের দাম তুলনামূলক বেশি। গ্রাহকের সহজলভ্যতার দিকটি বিবেচনা করে আমরা কাজ করছি কিভাবে এর দাম কমিয়ে আনা যায়। আমরা আশা করি আমাদের গবেষণাটি সম্পন্ন হলে সাধারণ ভোক্তা, পোল্ট্রি খামার মালিক, বাণিজ্যিক ব্রয়লার উৎপাদক, ফিডমিল কোম্পানিসমূহ উপকৃত হবে। কার্যকর, সাশ্রয়ী ও ব্যবহারযোগ্য খাদ্য কৌশল গ্রহণ করে মূল্য সংযোজিত মাংস উৎপাদন হবে। একই সাথে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ফিড বা সম্পূরক খাদ্য তৈরি ও বিপণনের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব এবং জীবন ধারাজনিত রোগ হ্রাস, ঔষধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখবে বলেও আশা করেন গবেষকবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমি প্রত্যাশা করি, এই প্রকল্প থেকে আমরা বাস্তবসম্মত ও কার্যকর একটি ফলাফল পাবো। আমি এমন কোনো গবেষণা চাই না, যা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না। আমাদের গবেষণা হতে হবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। কোনো গবেষণার প্রভাব উৎপাদন ব্যবস্থায় কেমন হবে, পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর এর কী প্রভাব তৈরি হতে পারে সবদিক বিবেচনা করেই একটি প্রকল্প শুরু করতে হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
