|
মায়ের জামিনের অপেক্ষায় আদালত প্রাঙ্গণে শিশুটির আরও একটি দিন
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মায়ের জামিনের অপেক্ষায় আদালত প্রাঙ্গণে শিশুটির আরও একটি দিন পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এক মামলায় প্রণয়ের মা তপসা বিশ্বাস এক সপ্তাহ ধরে কারাবন্দি। তার পক্ষে জামিনের আবেদন করেছিলেন আইনজীবী মো. ইরশাদুল হক। বৃহস্পতিবার সে বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। ইরশাদুল জানান, বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা সুলতানা সুইটি জামিন শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন রেখেছেন। এদিকে তপসার জামিন শুনানি হবে শুনে তার বোন সরলা বিশ্বাস সকালেই প্রণয়কে নিয়ে আদালতে আসেন। তাদের আরো কয়েকজন আত্মীয় এ সময় সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু শুনানি রোববার হবে জানতে পেরে হতাশ হয়ে পড়েন তারা। সরলা বলেন, "আজও ওর মায়ের জামিন হল না। বাচ্চাটা মায়ের জন্য কান্নাকাটি করে, কিছু খায় না, ঘুমোয় না। মায়ের কাছে যেতে চায়। অসুস্থ হয়ে পড়েছে, ঠান্ডাও লেগেছে। কি যে ঝামেলায় আছি!” শিশুটির মামাতো ভাই শেখর মণ্ডল বলেন, "সেই সকালে ওকে নিয়ে এলাম। আজও জামিন হল না। মাকে ছাড়া কীভাবে থাকবে?" এর আগে গত রোববারও প্রণয়কে কোলে নিয়ে সারা দিন আদালতের প্রাঙ্গণে কাটান। কিন্তু জামিন শুনানির খবর না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের। আদালত প্রাঙ্গণের একটি দেয়ালের পাশে সরলা আর প্রণয়ের সারাদিন অপেক্ষার বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার একটি চুরির মামলায় দণ্ডিত আসামিকে ধরতে ধামরাই থানা এলাকায় অভিযানে গিয়ে গত ২৩ জানুয়ারি হামলার শিকার হয় পুলিশ। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় দুই নারীসহ চারজনকে। পুলিশের কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে মামলা হয় তাদের বিরুদ্ধে। তপসা বিশ্বাস তাদেরেই একজন। বাকিরা হলেন কিরণ মালা, বাদল চন্দ্র সরকার ও দুলাল চন্দ্র সরকার। ২৪ জানুয়ারি তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ দুই নারীর রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অপর দুই আসামিকে একদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। মামলার বাদী ধামরাই থানার এসআই সুবোধ চন্দ্র বর্মন বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার একটি চুরির মামলায় বাবুল আক্তার নামে এক আসামির সাজা হয়। বাবুল ধামরাই থানার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বেরশ গ্রামে হরিলাল বিশ্বাসের বাড়িতে অবস্থান করছে খবর পেয়ে তারা সেখানে অভিযানে যান। “কিন্তু হরিলালের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে। তাদের সাথে মহিলারাও ছিল। শুক্রবার ছিল স্বরস্বতী পূজা। ওই বাড়িতে অনেক লোকজন ছিল। “হরিলাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সে ভেবেছিল তাকে ধরতে গেছি। এ কারণে তার নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করে। তার স্ত্রী তপসা ও ছেলে সৌরভ বিশ্বাস সবচেয়ে বেশি হামলা চালায়। এ কারণে মামলা করেছি।" তবে সেখানে গিয়ে বাবুলকে পাওয়া যায়নি বলে জানান সুবোধ চন্দ্র বর্মন। সুবোধ চন্দ্র বর্মন মামলায় অভিযোগ করেছেন, বাবুলকে গ্রেপ্তারের জন্য হরিলাল বিশ্বাসের বাড়িতে গেলে “আগে থেকে সেখানে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করা নিষিদ্ধ সংগঠনের ২৫/৩০ জন সদস্য হাতে লাঠি-সোঁটা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে পুলিশ সদস্যদের কাজে বাধা দেয়। তাদের উপর আক্রমণ করে। তাদের আটকে রাখে। “তাদের উপর আক্রমণে সুবোধ চন্দ্র বর্মন, তার তিন এএসআই ও এক কনস্টেবল আহত হয়। পরে থানা থেকে ফোর্স গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।” তপসা বিশ্বাসের স্বামী হরিলাল বিশ্বাস এবং ছেলে সৌরভ বিশ্বাসও এ মামলার আসামি।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
