চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহায়তা এবং কৃষকদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় এ বছর ধানের শীষে ভরে উঠেছে মাঠ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—পাকা ধান এখন মাঠজুড়ে সোনালি আভায় ঝলমল করছে। কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে।
কৃষকদের দাবি, ফলন ভালো হলেও বাজারদর কম এবং ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, পোকামাকড়ের আক্রমণে কৃষি অফিস থেকে যথাযথ পরামর্শ পাওয়া যায়নি, নিজেদের প্রচেষ্টাতেই ফসল রক্ষা করতে হয়েছে। তবে কৃষি অফিস বলছে, জনবল সংকট থাকায় শতভাগ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
কৃষক আবদুল মজিদ বলেন, “এবার আবহাওয়া ভালো ছিল, তাই গতবারের তুলনায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে যদি আরও পরামর্শ পেতাম, ফলন আরও বাড়তো।”
আরেক কৃষক জলিল সিকদার বলেন, “ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু সার–ঔষধের খরচ তুলতে পারছি না। বাজারে ধানের দাম যদি বাড়ে, তাহলে লাভবান হতে পারবো।”
রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “মৌসুমজুড়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে সাড়ে ৪ থেকে ৫ টন উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।”
কৃষকদের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “জনবল সংকটের কারণে সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে আমরা প্রায় ৩ হাজার কৃষককে সার ও বীজসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছি।”
বাজার সিন্ডিকেটের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। কোথাও সিন্ডিকেটের অভিযোগ পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বছর রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রায় ২৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১,০০০ থেকে ১,০৫০ টাকা দরে।