|
চিলমারীর রেলস্টেশন ২টি আজো বঞ্চিত উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে
মোঃ মাহবুবুল হাসান, চিলমারী
|
![]() চিলমারীর রেলস্টেশন ২টি আজো বঞ্চিত উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে উপজেলার বালাবাড়িহাট ও রমনা বাজার—এই দুটি রেলস্টেশন স্বাধীনতার পর থেকেই অবহেলিত, জরাজীর্ণ এবং ন্যূনতম অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। স্টেশনগুলোর পাশাপাশি রেলপথেও নেই কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন। কুড়িগ্রাম সদর থেকে রমনা বাজার স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার রেলপথ বছরের পর বছর ধরে রয়েছে বেহাল অবস্থায়। ফলে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন ট্রেন চলাচল করতে হয় এই রুটে। যাত্রীরা জানাচ্ছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই তাদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয় এখানে। রুটটির যাত্রী চাহিদা থাকলেও কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি না আসায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবাইকে। বালাবাড়িহাট স্টেশনে একটি ছোট্ট টিনশেড ভবন থাকলেও বহুদিন ধরে সেখানে হয়নি কোনো সংস্কারকাজ। ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে ভবনটি দেখলে মনে হয় এটি যেন বহু আগেই পরিত্যক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী রমনা বাজার রেলস্টেশনের অবস্থাও একই রকম করুণ। এখানে এখনো নির্মিত হয়নি কোনো পাকা ভবন। একমাত্র টিনশেড কক্ষটিও বহু বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। বৃষ্টি হলে পানি চুইয়ে পড়ে, নেই যাত্রীদের জন্য ছাউনি কিংবা বসার উপযুক্ত জায়গা। যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘রেলের প্রতি এ রকম অবহেলা কেন—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।’’ স্থানীয়রা জানান, রমনা বাজার ও বালাবাড়িহাট স্টেশনে শুধু চিলমারী নয়, বরং রৌমারী, রাজীবপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করেন ট্রেনের জন্য। কিন্তু সুবিধা–সুবিধাহীন পরিবেশে যাত্রীদের নানান ভোগান্তির শিকার হতে হয়। প্ল্যাটফরমে নেই কোনো ছাউনি, রেললাইনের দুরবস্থার কারণে নিয়মিতই ট্রেন আসে দেরিতে। এতে যাত্রীদের বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। কুড়িগ্রাম থেকে রমনা বাজার পর্যন্ত লাইনের সমস্যা থাকার বিষয়টি স্বীকার করে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের ব্যবস্থাপক বলেন, খুব শিগগিরই চিলমারী পর্যন্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু হবে এবং পাশাপাশি স্টেশন দু’টির উন্নয়ন কাজও হাতে নেওয়া হবে। চিলমারীর রেলস্টেশনগুলোতে উন্নয়নের এমন বঞ্চনা রোধে স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া ফিরিয়ে আনা হোক। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
