|
তোমরা কি আমাকে মেরে ফেলবে?: কাঠগড়ায় পুলিশের উদ্দেশে সেলিম প্রধান
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() তোমরা কি আমাকে মেরে ফেলবে?: কাঠগড়ায় পুলিশের উদ্দেশে সেলিম প্রধান বুধবার (২২ অক্টোবর) ঢাকার ভারপ্রাপ্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) জিয়াদুর রহমানের আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন সকাল সাড়ে ১২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সেলিম প্রধানকে হাজতখানা থেকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতের এজলাসে আনা হয়। কিছুক্ষণ পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতেই তিনি অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক মামুন আদালতে আবেদন করেন, আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও অর্থ যোগানদাতা সন্দেহে সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার দেখানো হোক। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। তবে সেলিম প্রধানের আইনজীবী সাহিদুল ইসলাম সিহাব জামিনের আবেদন করে বলেন, এজাহারে তার নাম নেই। কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। বিগত সরকার আমলে তার বিরুদ্ধে ৮-৯টি মামলা দেওয়া হয়েছিল। তখন তাকে বলা হতো বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ। এখন সরকার পরিবর্তনের পর তাকে আওয়ামী লীগপন্থি বলে মামলা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের শুধু রং বদলেছে, চরিত্র নয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, আসামি আগে গ্রেপ্তার দেখানো হোক, তারপর জামিনের আবেদন করা যেতে পারে। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ছিলেন এবং বর্তমান সরকারকে ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতা শামীম উসমানের ঘনিষ্ঠ এবং মিছিলে লোক ভাড়া করে আনার জন্য জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা দিচ্ছেন। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সেলিম প্রধান কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, এই ধরনের মিথ্যা কথা বলবেন না। ছি ছি! এত মিথ্যা কথা বলবেন না। পরে তার আইনজীবী তাকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেন। বিচারকের অনুমতি নিয়ে তিনি নিজের বক্তব্য রাখতে চান এবং বলেন, পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই যে বলতে পারে আমি কোনো দলের সদস্য ছিলাম। আমি একজন ব্যবসায়ী মানুষ। শামীম উসমান, জোসেফ, হারিস—এই চক্রের বিরুদ্ধে আমি প্রথম মামলা করেছি। আমি গাজী ও শামীম উসমানকে তাড়িয়েছি। জুলাই মাসে আমি বাংলাদেশের প্রথম যুদ্ধ শুরু করেছি—প্রতিদিন রাস্তায় ছিলাম। আমি চাই দেশের ভালো হোক। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসন যদি সৎ না হয়, কিছুই হবে না। তিনি আরও বলেন, আমি সন্ত্রাসী নই, বরং রূপগঞ্জের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়েছি। আপনারা রূপগঞ্জ বা নারায়ণগঞ্জের লোকজনকে জিজ্ঞেস করুন—একজন মানুষও আমার নামে বদনাম বলতে পারবে না। বিচারক তখন বলেন, আপনার সব বক্তব্য আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থাপন করবেন। এরপর আদালত সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। রায় ঘোষণার পরই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সেলিম প্রধান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুলিশ সদস্যরা তাকে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি চিৎকার করে বলেন, “তোমরা কি আমাকে মেরে ফেলবে? আমি অসুস্থ, আমার উচ্চ রক্তচাপ আছে।” এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে লিফটে করে হাজতখানায় নামিয়ে নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানে কয়েকবার পড়ে যেতে দেখা যায় সেলিম প্রধানকে। ২০১৯ সালে ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচনায় আসেন ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর গুলশানের বারিধারার “নেক্সাস ক্যাফে প্লেস” নামের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করে, তার কাছ থেকে ৬ দশমিক ৭ কেজি সীসা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গুলশান থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল হাসান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় কারাগারে আছেন। সেলিম প্রধান একসময় দেশের আলোচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রযুক্তি ও বিনোদন খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি তার নাম ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গেও জড়ায়। পূর্ববর্তী সরকার আমলে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নিজের বক্তব্যে তিনি বারবার দাবি করেছেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন; বরং রাজনৈতিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
