|
ড্রাইভার ও হেল্পারদের আলাদা পোশাকের ব্যবস্থা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ছবি: নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম এছাড়া ড্রাইভারদের জন্য আলাদা ডাটাবেইজ তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার পরে দায়ী চালকদের দ্রুত সনাক্ত করতে। দ্রুতই জেলার সকল বাস ড্রাইভার ও হেল্পারদের জন্য আলাদা আলাদা পোশাকও দেয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সড়কে শৃঙ্খলা আনতে মতবনিমিয় সভায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম আজ তার এক গুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে জেলার পরিবহ ব্যবস্থারাও পরিবর্তন আনতে হবে। যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ করতে তিনি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের এগিয়ে আসার আহবানও জানান জেলা প্রশাসক। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্মলেন কক্ষে আজ সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সড়কে শৃঙ্খলা আনতে মতবনিমিয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা এবং আন্তঃজেলা পরিবহনের গুরুত্বর্পূণ কেন্দ্র। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী এই জেলার উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। গত ঈদ-উল-আযহার সময়ে অতীতের চেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং প্রাণহানিও বেশি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই সড়ক পরিবহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে আজকের এই সভার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারন উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন,বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পরে অপরাধী সনাক্তে চালকদরে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেকায়দায় পড়তে হয়। এই জন্য জেলার সকল ড্রাইভারদের তথ্যভত্তিকি ডাটাবজে তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন,গণ পরিবহনের ড্রাইভার নিয়োগের সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স,ড্রাইভারের শারিরীক ও মানসিক সক্ষমতা এবং মাদকাসক্তি পরীক্ষাও দরকার। তিনি মালিকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন,আপনার মহা মুল্যবান গাড়িটির নিরাপত্তার জন্য হলেও নিয়োগ পত্র দরকার। এছাড়া একজন ড্রাইভারের সামাজিক মর্যাদার বাড়বে তার নিয়োগপত্র থাকলে। একজন ড্রাইভার জানেন না তার চালানো গাড়িটি আগামীকাল তিনিই চালানোর সুযোগ পাবেন কি না। অথচ গাড়িটি চালাতে চালাতে সেই গাড়ির প্রতি এক ধরনের মায়াও সৃষ্টি হয় চালকের। এই জন্য ড্রাইভারদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ পত্র দেয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করছি আমি,তিনি আরো যোগ করেন। অতিরিক্ত র্কমঘণ্টার কারণে চালকদের ক্লান্তিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারন উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন,চালকদের নির্ধারিত কর্ম ঘন্টা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা দরকার। চালকরে অনুপস্থিতির সুযোগ হেল্পারদের দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধে আইন প্রয়োগ, চালক ও হেল্পারদের জন্য পৃথক পোশাক ও পরিচয়পত্র চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। তিনি বলেন জেলা প্রশাসন জেলার সব চালকদরে নাম মাত্র খরচে নিয়মিত ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। সচতেনতামূলক কর্মসূচি নেয়াও জুরুরি বলে তিনি মনে করেন। নারায়ণগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো রওশন আলী সরকার নারায়গঞ্জ জেলায় এ ধরনের উদ্যোগ প্রথম নেয়ায় জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান। নারায়ণগঞ্জ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো সেলিম বলেন,জেলা প্রশাসকের উদ্যোগগুলো সফল হলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সভায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়,সিভিল সার্জন,নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
