ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৭ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
জনমত উপেক্ষা করে ভুল নকশায় ফের খুলনার কপিলমুনি বাজারে উচ্ছেদ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
শেখ সেকেন্দার আলী, পাইকগাছা
প্রকাশ: Sunday, 7 June, 2026, 6:33 PM

জনমত উপেক্ষা করে ভুল নকশায় ফের খুলনার কপিলমুনি বাজারে উচ্ছেদ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

জনমত উপেক্ষা করে ভুল নকশায় ফের খুলনার কপিলমুনি বাজারে উচ্ছেদ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

খুলনার কপিলমুনি বাজারে সড়ক সরলীকরণের নামে ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনার অর্থ পরিশোধ না করেই তৃতীয় দফায় আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। শনিবার বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে কপিলমুনি জাফর আউলিয়া ডিগ্রি মাদরাসা সংলগ্ন দোকানপাট ও বাসাবাড়ি। স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে ৬ মাস বন্ধ থাকার পর ফের অভিযান শুরু করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। 

তাদের দাবি, সড়কের উল্টোপাশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নির্মাণ বিপণির ভবন বাঁচাতে তৃতীয় দফায় জনমত উপেক্ষা করে ভেঙে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। প্রাথমিক নকশা পরিবর্তন করে চলমান এই উচ্ছেদের কারণে তৈরি হচ্ছে আরও দুটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। হাসপাতাল ও মাদরাসার সামনের অংশ পরিণত হবে মরণফাঁদে। 

এর আগে, ৬ ডিসেম্বর শনিবার হঠাৎ করেই এ কার্যক্রম শুরু করলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। এরপর ৭ ডিসেম্বর রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয় কপিলমুনি জাফর আউলিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার দ্বিতীয়তলা ভবন। এ সময় স্থানীয়দের প্রতিরোধে মুখে পড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা।

একপর্যায়ে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি ও মানবন্ধন করেন এলাকাবাসী। পরে গণশুনানির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপংকর দাশ এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হকের উপস্থিতিতে চলে গণ শুনানি কার্যক্রম। শুরুতে কপিলমুনি বাজারে সড়ক সরলিকরণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানের অসারতা তুলে ধরেন এলাকাবাসী।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি সুরাহার আশ্বাস দেন। বলেন, পরিবর্তিত নকশা বাতিল করে মূল নকশা অনুযায়ী সড়ক সরলিকরণ করা হবে। জনস্বার্থে ভেঙে দেয়া হবে সড়কের উল্টোপাশের নির্মাণ বিপণি। মূল নকশায় সোজা করা হবে কপিলমুনি-পাইকগাছা-কয়রা সড়ক। তবে হঠাৎ করে অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধ না করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ভুল নকশায় ফের উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। 

সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর জানায়, খুলনার ৩ উপজেলা এবং সাতক্ষীরার একটি উপজেলার ওপর দিয়ে বেতগ্রাম-তালা-কপিলমুনি ও পাইকগাছা-কয়রার প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কটি দুই লেনে উন্নীত করণে প্রকল্প নেয়া হয়। এ কারণে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪টি বাঁক সরলীকরণে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। 

অভিযোগ ওঠে, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বিপ্লব সাধুর নির্মাণ বিপণির ভবন বাঁচাতে কপিলমুনি বাজারের সড়ক সরলীকরণ নকশা দ্বিতীয় দফা পরিবর্তন করা হয়। অদৃশ্য কারণে সেই নকশা বহাল রেখে আরো দুটি বিপদজনক বাকের সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনা এবং জীবনের ঝুঁকি বাড়বে বলে দাবি স্থানীয়দের।

প্রকল্পটি ২০২২ সালের ৩০ শে জুন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে বরাদ্দের অর্থও। বর্তমানে প্রকল্প ব্যয় দাড়িয়েছে ৩শ' ৩৯ কোটি টাকা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status