|
সরকারি ব্রীজের প্রবেশপথে গেইট নির্মাণ করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে আওয়ামিলীগ নেতা
রায়হানুর রহমান, রামগঞ্জ
|
![]() সরকারি ব্রীজের প্রবেশপথে গেইট নির্মাণ করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে আওয়ামিলীগ নেতা ফলে উক্ত বাড়ীর ৩০ পরিবারের লোকজন বিকল্প পথে বর্ষায় নৌকায় চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন জানান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের জেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক বোরহান উদ্দিন সুমন ভূঁইয়া এবং তার ভাই লামচর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া দুইজন মিলে সরকারি ব্রীজের সামনে লোহার গেইট স্থাপন করে নিজেদের পরিবারের সদস্য ছাড়া বাড়ীর অন্য লোকদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বিষয়টি নিয়ে ২০২২ইং সনে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত দরখাস্ত দেয়ার অপরাধে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সশ্রস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ীর লোকজন পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়েছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে কয়েকদফা হামলার ঘটনাও ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা। সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় বাড়ীর লোকজন, স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ যে ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতেন, সেটি এখন তালাবদ্ধ। সরকারি বরাদ্ধে ব্রীজ নির্মিত হলেও গেইটের উপর ঝুলানো রয়েছে মুন্সী ফজলের রহমান ভূইয়া বাড়ী। স্থানীয়দের অভিযোগ সরকারি অর্থায়নে এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে ব্রীজটি নির্মাণ করা হলেও আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছেন সুমন ভূইয়া ও আলমগীর ভূইয়া। ব্রীজের মূল ফটকে তালা দিয়ে রাখার কারনে উক্ত বাড়ীর অন্য ৩০টি পরিবারের লোকজন পড়েন চরম বিপাকে। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল ভূইয়া জানান সরকারিভাবে এলাকাবাসী ও বাড়ীর লোকজনদের স্বার্থে ব্রীজটি নির্মিত হলেও উক্ত ব্রীজ দিয়ে তাদের পরিবারের লোকজন ছাড়া অন্য কাউকে চলাফেরা করতে দেয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আমরা আমাদের বাড়ীর পুরাতন রেকর্ডকৃত সম্পত্তি সংস্কার করে নতুন করে চলাচলের রাস্তা ও খালের উপর সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। পতিত সরকারের দোসররা সারাদেশ থেকে পালিয়ে গেলেও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সুমন ও আলমগীরসহ তাদের দোসররা আমাদেরকে আবারও জিম্মি করে চাঁদা দাবী করে আসছে। তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিসহ ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছে। ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নজির ভূইয়া বলেন “আমরা জীবিত থাকতে অন্তত এই রাস্তাটির সমস্যার একটা সুরাহা দেখতে চাই।” এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য বার বার নেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন এ প্রতিবেদক। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
