ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৯ জুন ২০২৬ ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
গরিব কারা, তারা কোথায় থাকে?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 27 February, 2025, 12:40 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 27 February, 2025, 12:43 PM

গরিব কারা, তারা কোথায় থাকে?

গরিব কারা, তারা কোথায় থাকে?

বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই দারিদ্র্য কোটি কোটি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে।

গ্রাম বনাম শহর: কোথায় দারিদ্র্যের হার বেশি?

বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য একটি গ্রামীণ সমস্যা হিসেবে দেখা গেলেও শহরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দরিদ্র মানুষ বসবাস করে। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ চরম দরিদ্র মানুষ গ্রামে বাস করে। বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকায় চরম দারিদ্র্যের হার অত্যন্ত বেশি। অঞ্চলটিতে গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার ৪৬ ও শহরাঞ্চলে ২০ শতাংশ।

কোনো ব্যক্তির দৈনিক আয় যদি ২.১৫ ডলার হয়, তবে তা চরম দারিদ্র্য নির্দেশ করে। তবে দৈনিক আয় ৬.৮৫ ডলার দারিদ্র্যসীমা হিসাবে ব্যবহার করলে দেখা যায়, শহরেও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। এই দারিদ্র্যসীমায় বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ দরিদ্র মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও এক-তৃতীয়াংশ শহরে বসবাস করে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকার শহরগুলোতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

দারিদ্র্যের শিকার বেশি কারা

বিশ্বের চরম দরিদ্রদের মধ্যে ছয়জনের মধ্যে চারজনই শিশু বা তরুণ। দারিদ্র্যের শিকার হওয়া শিশুদের সংখ্যা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ১৭ শতাংশ শিশু চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে, যেখানে তরুণদের মধ্যে এই হার ১২ শতাংশ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ। সাব-সাহারান আফ্রিকায় শিশুদের দারিদ্র্যের হার ৪২ শতাংশ, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শিক্ষার সঙ্গে দারিদ্যের সম্পর্ক

শিক্ষার সঙ্গে দারিদ্র্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কম শিক্ষিত ব্যক্তিদের দারিদ্র্যের হার বেশি। বিশ্বব্যাপী ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যারা কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেনি, তাদের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশ চরম দারিদ্র্যের শিকার। অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারীদের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ এই অবস্থায় রয়েছে। সাব-সাহারান আফ্রিকায় এ বৈষম্য আরও প্রকট, যেখানে শিক্ষাবিহীন ব্যক্তিদের দারিদ্র্যের হার ৩৯ শতাংশ।

বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ মহামারির পর শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও বড় সংকট তৈরি হয়েছে। স্কুল বন্ধ থাকার ফলে দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার ক্ষতি হয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ আয়ও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এই শিক্ষার ঘাটতি আগামী দিনে দারিদ্র্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

দারিদ্র্য বিমোচনে পদক্ষেপ

দারিদ্র্য মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। এজন্য গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ নজর প্রয়োজন, বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায়। শহরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্যও কার্যকর নীতিমালা ও শিশুদের দারিদ্র্য দূরীকরণে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি দরকার। একইসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ব্লগস

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status