|
শরীয়তপুরে দিনে তীব্র তাপদাহের কারনে রাতে ধান কাটছে কৃষক
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() শরীয়তপুরে দিনে তীব্র তাপদাহের কারনে রাতে ধান কাটছে কৃষক তীব্র তাপদাহের কারণে বিপাকে পড়েছেন শরীয়তপুরের বোরো ধান চাষিরা। অতিরিক্ত গরমের কারণে দিনে পাকা ধান কাটতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে রাতে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ধান কাটছেন তারা। মূলত, তাপ প্রবাহের মধ্যে কৃষকরা মাঠে ধান কাটতে গেলে হিট স্ট্রোক করতে পারেন- এমন শঙ্কা থেকে কৃষকদেরকে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে শরীয়তপুর কৃষি অফিস। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী সন্ধ্যার পর টর্চ লাইটের সাহায্যে ধান কাটছেন কৃষকরা। শরীয়তপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ছয় উপজেলায় ২৫ হাজার ৫২৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৫৮৫ হেক্টর, নড়িয়া উপজেলায় ৫ হাজার ৪২০ হেক্টর, জাজিরা উপজেলায় ১ হাজার ১৫১ হেক্টর, ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর, ডামুড্যা উপজেলায় ৩ হাজার ৮২১ হেক্টর ও গোসাইরহাট উপজেলায় ৪ হাজার ৮৯৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। গত বছর জেলায় আবাদ করা হয়েছিল ২৫ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৬ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন বেড়েছে ৩৩৬ হেক্টর জমিতে। গোসাইরহাটের বিনুইট্টা গ্রামের মো. হাকিম ঢালী এ বছর ৭০ শতাংশ জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। তার চাষাবাদকৃত জমিতে বেশ ভালো ফলন হলেও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দিনের বেলা তিনি ধান কাটতে না পেরে বেশ চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি টর্চ লাইটের আলোতে সন্ধ্যার পর থেকে ধান কাটা শুরু করেছেন। হাকিম ঢালী বলেন, যে গরম এ বছর পড়েছে, তা আমি আমার ৬০ বছরের জীবনে কোনোদিন দেখিনি। ধান পেকে কাঁটার সময় হয়েছে। কিন্তু গরমের কারণে কোনো শ্রমিক ধান কাটতে রাজি না হওয়ায় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চাইছিলাম। তাদের পরামর্শে এখন সন্ধ্যার পর থেকে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ধান কাটতেছি, যদিও এতে বেশ সময় ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু আমার ফসল ঘরে তুলতে পারব, এতেই আমি খুশি। সদর উপজেলার আজিজুল ইসলাম নামে একজন বলেন, রাতের বেলা তুলনামূলক গরম কম থাকে, সূর্যের তাপ থাকে না। গরমের কারণে শ্রমিকরা দিনের বেলা হিট স্ট্রোকের ভয়ে মাঠে ধান কাটার কাজ করতে চান না। তাই রাতের বেলা শ্রমিকদের নিয়ে জমির ধান কাটতেছি। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ধান কাটব। শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সারাদেশে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে হিট এলার্ট জারি করা হয়েছে। এমন তাপের মধ্যে কৃষকরা মাঠে ধান কাটতে গেলে হিট স্ট্রোকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এজন্য কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে রাতের বেলা টর্চ লাইট বা অন্য উপায়ে আলোর ব্যবস্থা করে যেন তারা ধান কাটেন। দিনের তুলনায় রাতে তুলনামূলক গরম কম হওয়ায় কৃষকরা স্বস্তিতে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা রাতের বেলা ধান কাটা শুরু করে দিয়েছেন। মাঠের বোরো ধান পেকে যাওয়ায় গরমের কারণে উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তীব্র গরমের কারণে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী রাতের বেলা যদি কৃষকরা ধান কাটতে পারেন, তাহলে তারা লোকসানেও পড়বেন না।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
