|
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অভাবের তাড়নায় ১ দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে দত্তক দিলেন বাবা
আহম্মেদুল কবির,কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অভাবের তাড়নায় ১ দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে দত্তক দিলেন বাবা জানা যায়,ওই গ্রামের শফিকুল ইসলাম নামের স্ত্রী মরিয়ম বেগম গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অভাবের সংসারে সন্তানের ভরণ পোষণ দিতে না পারার শঙ্কায় ১ দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে শনিবার সকালে প্রতিবেশি এক মামাত বোনের হাতে তুলে দেয় দরিদ্র পিতা শফিকুল। জানা যায়, দরিদ্র শফিকুলের নিজস্ব কোন জমি ও ঘর বাড়ি নেই। অন্যের বাড়িতে থাকে। স্থলবন্দরে পাথর ভাঙা শ্রমিকের কাজ করে খুব কষ্ট তার সংসার চালে। এর আগেও শফিকুল দম্পত্তি তাদের ২কন্যাকে দত্তক দেয়। বর্তমানে তাদের ৩ সন্তান রয়েছে। শফিকুল ইসলাম বলেন, 'প্রায় ১৩ বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। কয়েক বছর পর আরো ১ টি ছেলের জন্ম হয়। এর পর আমার স্ত্রীর টাইফয়েড হলে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এর কিছু দিন পরে আরো একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলে সে সন্তাকেও এক প্রতিবেশির কাছে দত্তক দেই। পরের বছর চতুর্থ কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। ওই মেয়ের বয়স এখন ৩ বছর। এর পর গত শুক্রবার পঞ্চম সন্তান জন্ম নিলে শনিবার সকালে এক প্রতিবেশি নিঃসন্তান মামাতো বোনের কাছে দত্তক দেই। শফিকুল আরো জানান, আমি সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর ভাঙ্গা শ্রমিকের কাজ করি। আমার থাকার কোন ঘর নাই। অন্যের বাড়িতে আশ্রিত থাকি। এই সামান্য আয় দিয়ে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা, তিন সন্তানের ভরণ পোষণ ও সংসারের খরচ চালানো আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়ে বুকের ধনকে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছি। শিশুকে দত্তক নেয়া পরিবারের সদস্য আকবর আলী জানান, আমার মেয়ে 'নিঃসন্তান হওয়ায় শিশুটিকে দত্তক নিয়েছি। আমার মেয়ে ঢাকায় থাকে। ইউপি সদস্য মনোয়ার হোসেন জানান, পূর্বে ১ টি সন্তান দত্তক দেওয়ার কথা জেনেছি। আজকের তথ্য আমার জানা নেই। তবে লোকটা খুব অভাবি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম ফেরদৌস জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ খবর নিবেন বলে তিনি জানান।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
