|
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ধর্ষণ, ৩ জন গ্রেফতার ১ জন পলাতক
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ধর্ষণ, ৩ জন গ্রেফতার ১ জন পলাতক ধর্ষণের শিকার ওই নারীর পরিবারের লোকজন জানায়, বুধবার বিকেল তিনটার দিকে ওই নারী মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাশেরতল জামতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তাইয়ের পাড় গ্রামে খালার বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়। বাড়ি থেকে বের হয়ে নাগেশ্বরীর ভাই ভাই মোড় পার হলে পূর্ব পরিচিত মালভাঙ্গা গ্রামের মৃত নূরুন্নবী মিয়ার ছেলে খোকা তাকে জিজ্ঞাসা করে কোথায় যাচ্ছে। উত্তরে ওই নারী বলেন তিনি খালার বাড়ি যাচ্ছেন এবং সেখানেই রাতে থাকবে। এ সময় খোকা তাকে মোটরসাইকেলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তার প্রতিবেশী মৃত আইনুল্লার ছেলে মুসা মিয়াকে ডেকে আনে। পরে মুসার মোটরসাইকেলে ওই নারীকে তুলে তারা সাঙ্গুয়ারভিটা গ্রামের শাহ আলমের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ওই নারীকে দুজনে ধর্ষণ করে চলে যায়। আভিযোগ রয়েছে শাহ আলম ও তার স্ত্রী খুশি বেগম নিজ বাড়িতে বহুদিন থেকে বিভিন্ন মেয়ে এনে অসামজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে ওই হাবাগোবা নারীকে শাহ আলম দম্পতির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই নারীকে শাহ আলম ও তার স্ত্রী খুশি বেগম একটি ঘরে তালা দিয়ে বন্দী করে রাখে। পরে অনেক খোঁজাখুজির পর ওই নারীর বাবা লোকজনের সহায়তায় শাহ আলমের বাড়ি হতে রাত ৮টার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার নারীর বাবা নাগেশ্বরী থানায় খোকা, মুসা, শাহ আলম ও খুশি বেগমের নামে অভিযোগ করে। থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার ভোরে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত খোকা ও মূসাসহ ধর্ষণে সহায়তা করায় খুশি বেগমকে গ্রেপ্তার করে। তবে শাহ আলম পলাতক রয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাবা জানান, আমার মেয়ে সহজ সরল, হাবাগোবা প্রকৃতির। খোকা ও মূসা আমার মেয়ের সম্পর্কে চাচা। তাই ওদের মোটরসাইকেলে উঠেছে। তারা দুজন মেয়েটাকে নিয়ে নির্যাতন করেছে। আবার ওখানেই বিক্রি করে দিয়েছে। আমার মেয়ের সামনেই অন্য ছেলেদের কাছ থেকে শাহ আলমের স্ত্রী ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। মেয়ে সব কিছুই আমাকে জানিয়েছে। আমি উপযুক্ত বিচার চাই। নাগেশ্বরী থানার ওসি (তদন্ত) সারোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে ৪জনের নামে মামলা হয়েছে। রাতেই এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুই যুবক ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত এবং খুশিকে সহায়তাকারী হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর পর বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
