পরকীয়া প্রেমের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের দুই শিশু ইয়াসিন মিয়া (৭) ও মোরসালিন মিয়া (৪) হত্যার ঘটনায় তাদের মা লিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন লিমা। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আফরিন আহমেদ হ্যাপী তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান। এর আগে গতকাল বুধবার (১৬ মার্চ) রাতে লিমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, নাপা সিরাপ খেয়ে নয়, পরকীয়া প্রেমের জেরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের সেই দুই শিশুকে বিষ মেশানো মিষ্টি খাইয়ে হত্যা করেন মা লিমা বেগম। তার পরকীয়া প্রেমিক সফিউল্লাহ তাকে একান্তে কাছে পেতে চেয়েছিল এবং শর্ত দিয়েছিল দুই সন্তানকে ছেড়ে আসলেই কেবল লিমাকে সে বিয়ে করবে। সে জন্য প্রেমিকের আনা বিষমাখা মিষ্টি সন্তানদের খাইয়ে হত্যা করেন লিমা।
পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, চালকলে কাজ করা সুবাদে শ্রমিক সর্দার সফিউল্লাহর সঙ্গে লিমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লিমাকে আর্থিকভাবেও সহায়তা করত সফিউল্লাহ। লিমার স্বামী ইসমাঈল হোসেন চোখে কম দেখেন এবং শারীরিকভাবেও কিছুটা অক্ষম ছিল। সে জন্য লিমা তাকে ছেড়ে সফিউল্লাহকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সফিউল্লার শর্ত ছিল দুই সন্তান ইয়াছিন (৭) ও মোরসালিনকে (৫) ছেড়ে আসতে হবে।
পুলিশ সুপার জানান, নিজেকে সন্তানদের থেকে মুক্ত করতে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে মিলে দুই ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন লিমা। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন (১০ মার্চ) বাড়িতে এসে বিষ মাখানো মিষ্টি দিয়ে যান সফিউল্লাহ। পাঁচটি মিষ্টি দু'জনকে খাওয়ান লিমা। এরপরই দুই শিশু অস্বস্তিবোধ করতে থাকে। পরে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে 'নাপা সিরাপ খেয়ে' দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।
আনিসুর রহমান আরও বলেন, ঘটনার দিন সফিউল্লাহর সঙ্গে ১৫ বার ফোনে কথা বলেন লিমা। ফোনকলের সূত্র ধরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার কথা। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয় লিমা। এ ঘটনায় ওই দুই শিশুর বাবা ইসমাঈল হোসেন গতকাল বুধবার বাদী হয়ে সফিউল্লাহ ও লিমার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে সফিউল্লাহ পলাতক আছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।