ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১৩ মে ২০২৬ ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
শিকলবন্দী দুই ভাই, দুঃখিনী মায়ের কান্না
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 27 February, 2022, 3:03 PM

শিকলবন্দী দুই ভাই, দুঃখিনী মায়ের কান্না

শিকলবন্দী দুই ভাই, দুঃখিনী মায়ের কান্না

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ঘাটলাবাগ হাটপুকুরিয়া ইউপির কেশোরবাগ গ্রামের কাজী বাড়ির বাসিন্দা দুই ভাই রাশেদুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম।

কামরুলের যখন দুই বছর তখন তার বাবা শামসুল আলম মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে অন্যের কাজ করে সংসার চালান নুরজাহান বেগম।

২০১৮ সালে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন রাশেদুল। এ অবস্থায় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। দুই বছর পর ছোট ভাই কামরুল ইসলামও অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় দুই সহোদরের ভাগ্যে জোটেনি চিকিৎসাসেবা। তাই শিকলবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের।

মা নুরজাহান বেগম নিজ ঘরের পিলারের সঙ্গে রাশেদুল ইসলাম ও কামরুল ইসলামকে শিকল ও তালা দিয়ে বেঁধে রেখেছেন।  সন্তানের চিকিৎসা চালাতে না পারলেও মায়ের আদর ও ভালোবাসার কোনো কমতি নেই মানসিক প্রতিবন্ধী এই দুই ছেলের জন্য। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে বৃদ্ধ মা এদিক-সেদিক ছুটে বেড়ান। চোখের সামনে চিকিৎসার অভাবে এভাবে ছেলেদের করুণ দৃশ্য সহ্য করাটা কঠিন। ছেলেদের চিন্তায় প্রতিনিয়ত কাঁদেন এই দুঃখিনী মা।

নুরজাহান বেগম বলেন, অন্যের ঘরে কাজ করে এবং মানুষের সহায়তা নিয়ে ছেলেদের মুখে খাবার তুলেই দিই। ওদের ছেড়ে দিলে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলে। আমাকেও মারধর করে। তাই শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখছি। আমাদের সম্পদ নেই। তাই ছেলেদের চিকিৎসা করাতে পারছি না।  কোনো সহযোগিতা পাই না। মা হিসেবে ওদের জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছি। প্রতিনিয়ত ওদের জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পাতছি। স্বামী ছাড়া এমন প্রতিবন্ধী ছেলে দুইটা নিয়ে আমার দুঃখের শেষ নেই।  

প্রতিবেশী জয়নাল আবেদিন বলেন, ছেলে দুইটা এই এলাকার মধ্যে সব থেকে ভদ্র ছেলে। তারা কখনো মানুষের এক টাকা মেরে খায়নি। কারো সম্পদ নষ্ট করে নি। আল্লাহ পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছেন হয়তো। আমাদের পক্ষ থেকে যা করা সম্ভব আমরা তা করছি। কিন্তু সুচিকিৎসার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। এদের টাকাপয়সা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ঘাটলাবাগ হাটপুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস এম বাকী বিল্লাহ বলেন, দিনদিন দুই সহোদরের অবস্থা আরো প্রকোট হচ্ছে। তাদের স্থায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন, যার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। আমার সাধ্যমতো যা প্রয়োজন, তা পূরণের চেষ্টা করেছি। স্থানীয় এমপি এইচ এম ইব্রাহিম, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। সবার সহযোগিতা নিয়ে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status