রাশিয়ায় জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ায় যুদ্ধ বাধিয়ে জয়ের মধ্য দিয়ে আবার জনসমর্থন ফিরে পেতে মরিয়া দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই মন্তব্য করেছেন এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী কায়া কাল্লাস।
তিনি বলেছেন, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার না করলে রাশিয়াকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
ইউক্রেন সীমান্তে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন রেখেই রাশিয়া আলোচনার কথা বলছে, যা কাল্লাসের কাছে অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘আমি রাশিয়ার সঙ্গে যে কোনো আলোচনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। রাশিয়াকে কোনো প্রস্তাব দিতে গেলেই আমাদের চোখের সামনে বড় একটি দৃশ্য ভেসে উঠবে। আর তা হলো রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে বন্দুক তাক করে রেখেছে। আর অস্ত্রের মুখে আলোচনা হয় না।’
কাল্লাস মনে করেন, পুতিন চলমান পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রতীয়মান করতে চাইছেন।
এদিকে রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, করোনা মহামারি পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থতার জন্য দেশের ভেতরে তোপের মুখে আছেন পুতিন। রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাত লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র অর্ধেক জনসংখ্যাকে টিকা দিতে পেরেছে দেশটি।
কাল্লাস বলেছেন, যখন কারও জনপ্রিয়তা কমে যায়, তখন একটি যুদ্ধের সাফল্য দেখিয়ে সমর্থন জোরালো করার চেষ্টা করা হয়। এর আগেও রুশ প্রশাসন এ উপায় ব্যবহার করেছিল। এখনকার ঘটনাগুলোও নিশ্চিতভাবেই এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন তিনি।
কাল্লাসের ভাষায়, ‘আমি মনে করি, পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পেরে তিনি (পুতিন) নিশ্চিতভাবেই মজা পাচ্ছেন। কারণ, কয়েক বছর ধরে তিনি অনেকটা উপেক্ষিত ছিলেন।’