১০ বছরের বিশ্বস্ত বাচ্চু নির্দয়ভাবে কেড়ে নেয় দুই প্রাণ
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 16 February, 2022, 5:56 PM
১০ বছরের বিশ্বস্ত বাচ্চু নির্দয়ভাবে কেড়ে নেয় দুই প্রাণ
দীর্ঘ দশ বছর ধরে বাসার তত্ত্বাবধান করা বিশ্বস্ত বাচ্চু মিয়ার হাতে খুন হন বাসাটির মালিক আফরোজা বেগম। সেই হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করে বাসার এক গৃহপরিচারিকা। বাচ্চু ও গৃহপরিচারিকা মিলে আফরোজা বেগমকে খুন করে ক্ষান্ত হননি, একই সঙ্গে আরেক গৃহপরিচারিকাকে খুন করে তারা।
পুলিশের ভাষ্য, অর্থ সম্পদের লোভে আফরোজা বেগমের বাসায় চুরির পরিকল্পনা করেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাচ্চু ও গৃহপরিচারিকা। বাসা থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করতে গেলে তাদের বাধা দেন আফরোজা বেগম ও আরেক গৃহপরিচারিকা। এতেই দুজনকেই ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তারা।
২০১৯ সালের নভেম্বরে ধানমন্ডি ২৮ নম্বর সড়কের লোবেলিয়া অ্যাপার্টমেন্টের এ ঘটনা সম্পর্কে বুধবার দুপুরে কথা বলেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের (উত্তর) পুলিশ সুপার আহসান হাবীব জানান, বাচ্চু মিয়া ও তার সহযোগী গৃহপরিচারিকা সুরভী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া একটি সোনার চেইন ও দুটি সোনার চুড়ি। প্রায় দুই বছর ধরে মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বাচ্চু ও সুরভীকে আসামি করে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আহসান হাবীব জানান, খুনের ঘটনার পরই আফরোজা বেগমের মেয়ে দিলরুবা সুলতানা ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন। ধানমন্ডি থানা ও ডিবি পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করে। ২৬ দিন তদন্ত করে তারা মূল দুই আসামি বাচ্চু মিয়া ও সুরভীসহ সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করে। হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন সুরভী। কিন্তু বাচ্চু মিয়া দোষ স্বীকার করেননি। পরে মামলার বাদীর নারাজি ও পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআই ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর তদন্ত শুরু করে। গ্রেফতার সুরভী ও বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবার রিমান্ডে নেয় পিবিআই। সুরভীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগারগাঁওয়ে তাঁর ভাড়া বাসার মাটি খুঁড়ে একটি সোনার চেইন ও দুটি সোনার চুরি উদ্ধার করা হয়। এ সময় চুরি করা মুঠোফোনটি বিক্রির কথা স্বীকার করেন সুরভী।
হত্যাকাণ্ডের মোটিভ (উদ্দেশ্য) সম্পর্কে পিবিআইয়ের এ পুলিশ সুপার জানান, বাচ্চু দীর্ঘ ১০ বছর ফ্ল্যাটের তত্ত্বাবধান করে আফরোজা বেগমের বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। তবে বাচ্চুর মধ্যে বিলাসিতার আকাঙ্ক্ষা ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে বাসার অর্থ-সম্পদের প্রতি তার লোভ জন্মায়। ওই সময় একজন গৃহপরিচারিকা খুঁজছিলেন আফরোজা বেগমের মেয়ে দিলরুবা। সেই সুযোগটি কাজে লাগান বাচ্চু। এদিকে, সুরভী নামের এক নারী কাজের খোঁজে ধানমন্ডিতে এলে বাচ্চুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কাজ দেওয়ার কথা বলে বাচ্চু সুরভীকে নিয়ে আফরোজা বেগমের বাসা থেকে স্বর্ণালংকার চুরির পরিকল্পনা করেন। সেই অনুযায়ী সুরভীকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে ঐ বাসায় নিয়ে যান বাচ্চু। কাজ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বাসার কিছু কাজও করে সে।
আহসান হাবীব জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৪টায় বাসায় ঢুকে আফরোজা বেগমের কাছে আলমারির চাবি চান বাচ্চু। কিন্তু চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাচ্চু ও সুরভী ছুরি দিয়ে আফরোজাকে আঘাত করেন। এরপর চাবি নিয়ে আলমারি খুলে সোনার চেইন, সোনার চুড়ি ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান তারা। এ ঘটনা বাসার অপর গৃহপরিচারিকা দিতি দেখে ফেলায় তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান সুরভী। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আফরোজা বেগম ও দিতির মৃত্যু হয়।