প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ডিজিটালাইজেশনের সুফলতা পাচ্ছে বর্জ্য। এতোদিন এই বর্জ্য ছিলো আমাদের জঞ্জাল। পঁচাগন্ধা। যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়। ড্রেন, কালভার্ট, খাল, নদ-নদী ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে বর্জ্য আবর্জনায়। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। পানের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে নদ-নদীর পানি। দূষিত পানির কারণে হচ্ছে না মাছের চাষাবাদ ও বিচরণ।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের বিগত ৫০ বছরে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে গড়ে ওঠেনি পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রীসভার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পিত হয় মো. তাজুল ইসলামের ওপর। গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হন তিনি। শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেন। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ সফরে গিয়ে সেসব দেশের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়।
জাপান এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যে মডেল অনুসরণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তার চেয়ে বাংলাদেশের জন্য ইনসিনারেশন অর্থাৎ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতি সর্বোত্তম। এই পদ্ধতিতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। তাই প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিপুল এই জঞ্জাল বা বর্জ্য রূপান্তরিত হবে সম্পদ হিসেবে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করতে যাচ্ছে আধুনিক সভ্যতার এক নতুন অধ্যায়ে। নগরবাসীর জন্য অস্বস্তিকর ও পরিবেশের জন্য হুমকি এই বর্জ্য এখন ইতিবাচক অধ্যায়ে ধাবিত করবে।
যার ধারাবাহিকতায় ৩০ নভেম্বর ২০২১ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মোঃ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চায়নার রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।
বক্তারা এলজিআরডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলামকে বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উ্যপানে আইকন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আমিন বাজার এলাকায় চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিএমইসি) ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। ব্যয় হবে প্রায় ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য লাগবে। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১৮ দশমিক ২৯৫ টাকা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে চীনা কোম্পানি। চীনা কোম্পানি নিজ ঝুঁকিতে প্ল্যান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় জমি ও নিয়মিত বর্জ্য সরবরাহ করবে। আর উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে বিদ্যুৎ বিভাগ।
উল্লেখ্য কুমিল্লা -৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলাম ব্যবসা, সমাজসেবায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ’৯৬ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হন। তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ২০১৪ সালের সংসদে তিনি বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি লাঘবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের চ্যালেঞ্জিং কর্মসূচিতে তিনি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী ভূমিকা রাখেন। যা বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা অবগত। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তৎকালীন সময়েই তিনি বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও সংসদে উপস্থাপন করেন। যার যথাযথ বাস্তবায়নে সঠিক প্লাটফরম হিসেবে এখন এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে কাজে লাগাতে পেরেছেন। মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ৩ বছরের মাথায় রাজধানীর আমিন বাজারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ প্লান্টের শুভ সূচনা তারই ধারাবাহিকতা।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ এতদিন ছিলো স্বপ্নের মতো। কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি প্রস্তুত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে বিভাগীয় জেলা শহর ও তৃণমূলের পৌরসভাগুলোতে এর সুবাতাস বইবে। অচিরে এই সেবা পৌঁছে যাবে জেলা ও তৃণমূলের পৌরসভাগুলোতে।
বিভাগী বা জেলা শহর অথবা পৌরসভা প্রতিদিন ৬শো টন ময়লা আবর্জনা সরবরাহ করতে পারবে তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমন্বয় করে সরাসরি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর মতে আগে আমাদের ভিক্ষুক ও মিসকিন জাতি বলা হতো। এই দুর্নাম ঘুচিয়ে আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। কিন্তু এখন আমাদের বলা হয় নোংরা। এই অপবাদ ঘুচাতে দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন দরকার। আমিন বাজারের বিদ্যুৎ প্রকল্পকে মডেল হিসেবে সামনে রেখে এগিয়ে যাবে বর্জ্য ও নোংরা আবর্জনার ইতিবাচক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার কর্মসূচি ।