বান্দরবানে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় এক নারী আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ জুলাই) সকালে শহরের বনরূপা পাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২১ জুলাই শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে আইনজীবী সারাহ সুদিপা ইউনুছ এবং তার স্বামী আইনজীবী ফয়সাল আহমেদকে আসামি করে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগীর পরিবার। সেই মামলায় ১নম্বর আসামি হিসেবে আইনজীবী সারাহ সুদিপা ইউনুছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পলাতক থাকায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শহরের বনরূপা পাড়ায় উকিল দম্পতির বাসায় কাজে থাকাকালীন বাড়ির গৃহকর্ত্রী সারা সুদীপা ইউনুছ গৃহকর্মী জয়নাবকে মারধর ও নির্যাতন করত। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে গত ২০ জুলাই সকালে শিশুটি আইনজীবী দম্পতির বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটি তার পরিবারকে নির্যাতনের বিষয়টি জানালে তার অভিভাবক রওশন আকতার বাদী হয়ে এ আইনজীবী দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আদালতের মাধ্যমে চট্টগ্রামে হাটহাজারীতে সেফহোমে পাঠানো হয়। মামলার ১ নম্বর আসামি সারাহ সুদিপা ইউনুছকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বান্দরবান পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার জানান, শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। তার স্বামীকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৭ মাস আগে শিশু জয়নাব আক্তার জোহুরাকে (৯) বনরুপা পাড়ায় উকিল দম্পতির বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দেন রওশন আরা নামে এক নারী। কাজে থাকাকালীন বাড়ির গৃহকর্ত্রী সারা সুদীপা ইউনুছ গৃহকর্মী জয়নাবকে মারধর ও নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে গত ২০ জুলাই (মঙ্গলবার) সকালে শিশুটি উকিল দম্পতির বাসা থেকে পালিয়ে যায়।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাওয়া গেলে গৃহকর্তা ফয়সাল স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে ওই গৃহকর্মীকে স্থানীয় অভিভাবক রওশন আরার কাছে দিয়ে আসে। পরে শিশুটির নির্যাতনের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
এ ঘটনায় ২২ জুলাই রওশন আরা ভিকটিমের পক্ষ হয়ে উকিল দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে।