|
কোরবানির অর্থনীতি
তৌহিদ এলাহী
|
![]() তৌহিদ এলাহী কোন এক বড় ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ বা কালোটাকার মালিক যদি টাকা বিদেশ পাচার করে দেয়, তাহলে মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট বন্ধ অথবা ধীর হয়ে যায়। অপরদিকে ইদ, পহেলা বৈশাখ, গ্রাম কেন্দ্রিক ক্ষুদ্র কৃষক, ব্যাবসায়ীর ইনকাম, সরকারের সোশাল সেফটি নেট এর টাকাগুলো অনেক বেশি হাতবদল হয়, অর্থনীতিকে প্রাণ দান করে। এই ধরুন সামান্য গরু পালনের সাথে জড়িত ঘাস, এনিমেল ফিড, দুগ্ধজাতপন্য ব্যবসায়ী, চামড়া ব্যবসায়ি, মসজিদ- মাদ্রাসা- এতিমখানা, ট্রান্সপোর্ট শ্রমিক, দালাল,/কসাই, রাখাল, দোকানদার কত নাম জানা অজানা পেশার কত জন যে জড়িত তা আংগুল গুনে হিসেব করা সম্ভব না। এরা যা পায় তা দিয়ে চালু রাখে গ্রামের চাল, ডাল, কাপড় ও নাম অজানা কত শত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ির জীবন। এই ধরুন কোরবানীকে কেন্দ্র করে দেশে ফ্রিজের যে ব্যবসা হয় এটা আপনি ফেলে দিতে পারবেন না। এ ইদকে কেন্দ্রকরে এভাবেই টাকা ফ্লাই করে, মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট কাজ করে। আমাদের কোরবাণীর অর্থনীতির পরিমান প্রায় ৭০-৮০ হাজার কোটি হলেও এর মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট অনেক বেশিগুণ। দেশের চামড়াজাত পন্য রপ্তানী ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে তা এই কোরবানী ইদের অবদান। দেশ স্বাধীনের পর যে কয়টি যুগান্তকারী পলিসি ডিসিশন হয়ে হয়েছে এবং দেশের অর্থনীতির বড় একটি অংশকে নতুন করে প্রাণ দিয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, আশির দশকে দেশের ঔষধনীতি(দেশে এভেইলবল ঔষধ আমদানি নিষিদ্ধ করা), সহজশর্তে গার্মেণ্টসের জন্য এলসি করার সুযোগ এবং সর্বশেষ দেশে বিদেশি গরু আমদানী নিষিদ্ধ করা। এগুলোর প্রত্যেকটার টাকাগুলোর ফ্লাইং স্পেস দেখাতে গেলে বিরাট মহাকাব্য হয়ে যাবে। ঋণদাতাদের জিডিপি বা জিএনপির হিসেব, বিরাট বুদ্ধিজীবী অর্থনীতিবিদদের পত্রিকার রিপোর্ট শেষের কমেন্টারি বা মাঝের পাতার কলাম, কিংবা আধুনিক সেকুলার ও ভেজিটেরিয়ান বুদ্ধিজীবীদের পশুপ্রেম এ নিয়ে আপনাকে কোন ধারণা দিতে পারবে না। এ জানতে হলে আপনাকে এ সেক্টরগুলোর সাথে জড়িত নিম্ন-আয়ের মানুষগুলোর সাথে মিশতে হবে, তাদের জীবন জীবিকা দেখতে হবে, বেচে থাকার সংগ্রাম উপলব্ধি করতে হবে, দিনশেষে তাদের দুবেলা ভাতের সংস্থানের পর ক্যাপ্সটান সিগারেট বা আকিজ বিড়ি টানার সুখ সন্ধান করতে হবে। আর নতুন পলিসিতে উতসাহিত হয়ে হাজার হাজার শিক্ষিত তরূন, বেকার যুবক থেকে শুরু করে বড় বড় শিল্পদ্যোক্তারাও পশুপালনের দিকে ঝুকেছে, তাদের ব্যাবসা ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রবিন্দু এ কোরবানির ইদ। দেশে কমবেশি আট কোটি লোক এ শিল্পের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উপকারভোগী। এসব বলার উদ্দেশ্য হলো লকডডাউন শিথিল জাস্টিফাই করা। আসলে এসময় যারা লকডডাউন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন, তারা হয়ত কোনদিন গ্রামে জাননি, অথবা গেলেও গ্রামের মানু্ষদের জীবন ও জীবিকার উৎস সন্ধান করেননি। আপনি অর্থনীতির কোন থিউরিতে এ লকডডাউন জাস্টিফাই করবেন? ধান ভানতে গিয়ে আরেকটু শিবের সংগীত পরিবেশন করি, কোরবানীর গরু জবাই নিয়ে কিছু সিজনাল পশুপ্রেমির আবির্ভাব হয়। দয়া করে কোরবানীর ছাগলের মত অসময়ে ভ্যা ভ্যা করবেন না। মানুষগুলোকে নিজের পায়ে দাড়াতে দিন। এক কৌটা দই খেয়ে কি পরিমাণ ব্যাক্টেরিয়া হত্যা করেছেন জানলে আপনার ভ্যা ভ্যা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। তৌহিদ এলাহী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
