সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বখাটের হাতে চিকিৎসক লাঞ্ছিত
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 13 July, 2021, 4:10 PM
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বখাটের হাতে চিকিৎসক লাঞ্ছিত
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এক যুবক জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
আটক যুবকের নাম মিজানুর রহমান। তিনি শহরের হাছননগর এলাকার বাসিন্দা। এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে এক নার্সকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় সে। পরবর্তী সময়ে সালিসি সভায় ওই ঘটনার মীমাংসা করা হয়।
চিকিৎসক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে পৌর শহরের হাছননগর এলাকার যুবক মিজানুর রহমান তার ভাইকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য জরুরি সেবা কক্ষে এসে চিকিৎসককে বাসায় নিয়ে যেতে বলেন কিন্তু কর্তবরত চিকিৎসক আবু জাহিদ মোহাম্মদ মাহমুদ বাসায় যেতে না চাওয়ায় কথা কাটাকাটি হয়।
কিছুক্ষণ পর আবার ঐ যুবক তার অসুস্থ ভাইসহ কয়েকজনকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চিকিৎসককে চড়-থাপ্পড় মারেন ওই যুবক।
ইতিমধ্যে ঘটনাটি হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত একজনকে আটক করে নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ জানান সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
চিকিৎসক আবু জাহিদ মোহাম্মদ মাহমুদ বলেন, সকাল ৭টার দিকে ঐ যুবক হাসপাতালে এসে তার ভাই অসুস্থ বলে আমাকে বাসায় নিয়ে যেতে বলে কিন্তু আমি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় যেতে পারি না বলায় সে আমার উপর ক্ষুব্ধ হয় পরে গিয়ে আরও কয়েকজন যুবক নিয়ে এসে আমাকে মারধর করে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বললেন, মিজানুর রহমান এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাতে সদর হাসপাতালের শ্রাবন্তী কোচ (২২) নামের এক নার্সের গলায় ছুরিকাঘাত করে আহত করেছিল। সে সময় মিজানুরের বিরুদ্ধে সদর থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল এবং নার্সরা কর্মবিরতি পালন করেছিলেন।
সদর থানার ওসি (তদন্ত) এজাজুর ইসলাম জানান, চিকিৎসক লাঞ্ছিতে খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে আসি। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনিসুর রহমান জানান, হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসককে এভাবে মারধর কোনভাবে কাম্য নয়। এর আগেও এই যুবক হাসপাতালে ঢুকে একজন নার্সকে ছুরিকাঘাত করেছে এসব ঘটনার আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়া হলে এর সমাধান হবে না।