ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সম্পত্তির জন্য বৃদ্ধ বাবা-মাকে পিটিয়ে মাঠে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলে কফিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের দেহানাগড় ডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- একই গ্রামের ৯০ বছর বয়সী আজিম উদ্দীন ও তার স্ত্রী কুলসুম বেগম। তারা দুজনই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় বড় ছেলে কফিল উদ্দিন, তার স্ত্রী মালেকা, নাতি মানিক ও নাতনি মুক্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বৃদ্ধ বাবা-মা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন কফিল উদ্দিন।
বৃদ্ধ দম্পতির ছোট ছেলে রফিক ইসলাম বলেন, কিছুদিন ধরেই বাবা-মায়ের সঙ্গে বড় ভাইয়ের জমি নিয়ে সমস্যা চলছিল। শুক্রবার সকালে জমি দখল করতে আসেন বড় ভাই। এতে বাধা দিতে গেলে বাবা-মাকে মারধর করেন।
তিনি আরো বলেন, জমির সমস্যা আলাদা বিষয়। কিন্তু বাবা-মাকে এভাবে মারবে এটা কখনো ভাবিনি। আমার বড় ভাই, ভাবি ও তাদের ছেলে-মেয়ে সবাই বাবা-মাকে পিটিয়ে মাঠে ফেলে রাখেন। পরে তাদের চিৎকার শুনে উদ্ধার করি।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে কফিল উদ্দিন বলেন, সকালের দিকে জমিতে আমি রোপা লাগাতে যাই। হঠাৎ জমিতে এসে গড়াগড়ি শুরু করেন আমার বাবা-মা। পেছন দিক দিয়ে আমার ছোট ভাই রফিক ও তার বউ আমাদের ওপর চড়াও হন।
তিনি আরো বলেন, তারা আমাকে অনেক মারধর করেছেন। আমার ছেলেকেও মেরেছেন। আমরা নিজেরাই চিকিৎসাধীন রয়েছি। এখন তারা মিথ্যা কথা বলছে।
হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে তাদের পরিবারে সমস্যা রয়েছে। পারিবারিকভাবে বসে এর সমাধান করতে বলা হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে আর বসা হয়নি।
পীরগঞ্জ থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় বলেন, জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মারামারি হয়েছে। দুই পক্ষের লোকজনই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাবা-মা এক ছেলের পক্ষ নিতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।