প্রপ্যতার তারিখ থেকে আর্থিক সুবিধা সহ আপগ্রেডেশনের দাবিতে এবং দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষকদের আপগ্রেডেশন নিয়ে টালবাহানা ও অহেতুক সময় ক্ষেপণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে গোপালগঞ্জ এর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ। এসময় তারা তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরে ও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
আজ বুধবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২০) সকাল ১১.৩০-১২.৩০ পর্যন্ত টানা এক ঘন্টাব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সম্মুখ গেটে শিক্ষকরা মানববন্ধন করে। পরে শিক্ষক লাউঞ্জে একটি সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড হাসিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষক অংশ নেয়। এসময় তারা শিক্ষকদের আপগ্রেডেশনের বিষয় সহ নানা জটিলতার কথা তুলে ধরে। শিক্ষকরা বলেন, একসাথে ৩-৪ বছর ধরে ১৫০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি কোথাও থেমে নেই। শিক্ষকদের স্থান ল্যাব ও ক্লাসরুম, রাস্তা নয়। কিন্তু আমরা আজ রাস্তায়। আমরা কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা চায় না। আমরা চায় নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আমাদের প্রোমোশন দেওয়া হোক।
এছাড়াও শিক্ষকরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সচিব পর্যায়ের কেউ নয়। তিনিও লেকচারার থেকে প্রভাষক, প্রভাষক থেকে উপাচার্য হয়েছে। তাই আমাদের দাবির বিষয়ে তাকে আলাদা করে কিছু বোঝাতে হবে না। শিক্ষদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষক, ছাত্র সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরিতে উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনের সভাপতি ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড হাসিবুর রহমান বলেন, শিক্ষকরা আজ সব থেকে অবহেলিত। বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে আমরা অবহেলিত হতে চায় না। এমন কোনো আন্দোলনে আমরা যাবো না, যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয় কলঙ্কিত হয়। তিনি শিক্ষকদের দাবি আলোচনার মাধ্যমে মেনে নিয়ে ক্যাম্পাসে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান উপাচার্যের প্রতি।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২-৩ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে রিজেন্ট বোর্ড হয়নি। যার কারণে শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। এটা একটা বড় সংকট। এই সংকট নিরসনের আহবান জানান তারা।
সম্মেলনে তারা আরও বলেন, উপাচার্যের সাথে আমরা প্রতি মাসে ২ বার করে দেখা করেছি। প্রত্যেকবারই তিনি আপগ্রেডেশনের বিষয়ে কমিটি গঠন করে সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু এখনো আমরা কোনো সমাধান পায়নি। যার কারণে আমরা আজ মানববন্ধন করতে বাধ্য হয়েছি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বলেন, আপগ্রেডেশনের বিষয়ে উপাচার্যের সাথে আলোচনা করেও কোনো সমাধান পায়নি। পরবর্তী আন্দোলনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২৭-২৯ তারিখ শহীদ মিনারের পাদদেশে প্রতিদিন এক ঘন্টা করে আমরা অবস্থান করবো।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম আরও বলেন, উপাচার্য চাইলে বিষয় টা যখন তখন সমাধান করতে পারে একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে শিক্ষকরা বিষয়টা মিডিয়াতে তুলে ধরে একটা সমাধানের আহ্বান জানান সাংবাদিকদের প্রতি।