ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 14 December, 2020, 6:46 PM
ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ
আগেরবার পৃথক সংবাদ সম্মেলন ডেকে স্ত্রীর হাতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন মেয়র মাহফুজুল হক। তবে এবার সেই স্ত্রী-ই স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার চাঁদপুর প্রেসক্লাবে এমন সংবাদ সম্মেলন করেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহফুজুল হকের প্রথম স্ত্রী সোনিয়া আক্তার।
মেয়র স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে স্ত্রী সোনিয়া আক্তার এ সময় বলেন, সংসার হারিয়ে এখন তিন সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাকে ও তার পরিবারের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ১০ বছর আগে মাহফুজুল হকের সঙ্গে তার (সোনিয়া আক্তারের) বিয়ে হয়। তাদের ঘরে বর্তমানে তিন সন্তান রয়েছে। এ ছাড়া সন্তানসম্ভবা বলেও জানান তিনি। এ সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন সোনিয়া আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মেয়র মাহফুজুল হকের শ্বশুর বাচ্চু মিজি বলেন, ফরিদগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক বিগত পাঁচ বছর আগে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপরই তার চারিত্রিক পরিবর্তন শুরু হয়। এ সময় নেশায় জড়িয়ে পড়া এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন মেয়র।
এসবের প্রতিবাদ করলে আমার মেয়ে সোনিয়া আক্তারকে নির্যাতন করা হতো। কয়েক মাস আগে মেয়র মাহফুজুল হক প্রথম স্ত্রী সোনিয়াকে কোনো কিছু না জানিয়ে কুমিল্লায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এর প্রতিবাদ করায় তিনি প্রথম স্ত্রী সোনিয়াকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেন এবং ঘর থেকে বের করে দেন। এ ছাড়া আমার আরেক জামাতার কাছ থেকে ঠিকাদারি ও ব্যবসার কথা বলে সাত লাখ ৭০ হাজার টাকা ধার নেন মেয়র।
সোনিয়া আক্তারের বাবা বাচ্চু মিজি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বর্তমানে মেয়ে সোনিয়া আক্তার তার তিন সন্তান ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং দায়িত্বশীল অন্যদের সহযোগিতা চান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত কিছু দিন আগে স্ত্রী সোনিয়া আক্তার মানসিক রোগী ও অসুস্থ এমন অভিযোগ তুলে পৃথক আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মাহফুজুল হক বলেন, তার অসুস্থ স্ত্রীকে দিয়ে প্রতিপক্ষরা অপবাদ ছড়াচ্ছে। কারণ, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে তিনি একজন জনপ্রিয় ও শক্ত প্রার্থী। তাই রাজনীতি ও ভোটের মাঠে তাকে ঘায়েল করতে প্রথম স্ত্রীকে ঢাল হিসেবে অন্যরা ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, স্ত্রীর হাতে নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন ক্ষমতাসীন দলের এই মেয়র।