৭৭ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ পিতার উচ্চ শিক্ষিত নিরাপরাধ মেধাবী সন্তান একটি শিল্প গ্রুপের অক্রোশে পড়ে গত প্রায় ১১ মাস যাবৎ বিনা বিচারে জেলে হাজত বাস করছে ।
বৃদ্ধ পিতার মতে, তাঁর সন্তানের নাম মুনির হোসেন খান। সে আমেরিকান পাসপোর্টধারী একজন নাগরিক। তাঁর দাদা মুসলিম খান, কলকাতা আলীগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন গ্র্যাজুয়েট। মুনীরের বৃদ্ধ পিতা মোয়াজ্জেম হোসেন খান ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের তৃতীয় ব্যাচের ছাত্র এবং চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র।
তিনি ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন খান হিসাবে জনমনে বেশ সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, আমার ছেলে মুনির হোসেন চট্টগ্রামের সেন্ট প্লাসিডস স্কুলের ছাত্র। পরবর্তীতে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে 'ব্যাংক অব আমেরিকা ফ্লোরিডায় সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট' হিসাবে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চাকুরি করে। ২০০৭ সালে মুনির হোসেন খাঁন তাঁর স্কুল বন্ধু কেডিএস গ্রুপের কেওয়াই স্টিলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্হাপনা পরিচালক সেলিম রহমানের অনুরোধে দেশে এসে কেওয়াই স্টিল মিলের নির্বাহী পরিচালক হিসাবে যোগদান করে। অল্প সময়েই সে কোম্পানীর উন্নতির কারনে মুনির হোসেন খানকে নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে পেইড ডাইরেক্টর হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়।
এরপর থেকে তার রক্ত-ঘাম-মেধায় এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের একটি শীর্ষ স্হানীয় ঢেউ টিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (মোরগ মার্কা ঢেউটিন) রূপে পরিণত হয়। আজ ২৫ নভেম্বর সকাল ১১ ঘটিকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের একটি হলরূমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্যগুলো জানায় মুনিরের বৃদ্ধ পিতা মোয়াজ্জেম হোসেন খান।
তিনি জানান, ২০০৭ সালে মুনির কেডিএস গ্রুপের এই কোম্পানিতে যোগ দেয় এবং ঐ সময়ে এ প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ছিল হাতে গোনা কয়েককোটি টাকা মাত্র । ২০১৮ সালে তা বিশাল অঙ্কে এসে দাঁড়ায়। কোম্পানীকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য মুনির হোসেন খানের সাফল্যের কথা স্টিল জগতে দেশে-বিদেশে সুনামসহ ছড়িয়ে পড়ে।
বন্ধুর অনুরোধে আমেরিকার মত উন্নত দেশের জীবন-যাপন এবং উন্নতদেশে সন্তানদের লেখাপড়া এবং সন্তান-সন্ততীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এর কথা না ভেবে বাংলাদেশে এসে তার আজকের এই করুন পরিণতি বলে দাবী বৃদ্ধ পিতা মোয়াজ্জেম হোসেন খানের। তার দুই সন্তান এবং স্ত্রী আজ অমানবিক মানবেতর জীবনযাপন করছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখী।
জেলখানায় বোর্ড মিটিং, এক ঘন্টা ধরে মারধর, কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে ইয়াসিন রহমান টিটু উত্তরাধিকারসূত্রে কেওয়াই স্টিলের একজন মালিক। বর্তমানে তিনি জেলবন্দি থাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরেই নিয়মিত কেওয়াই স্টিলের ব্যবসায়ীক নীতি-নির্ধারণী সভা করেন। ঠিক পূর্বের ন্যায় ১১ এপ্রিল ২০১৮ সালে বিকালে প্রতিষ্ঠানের একাউন্টস ইনচার্জ ইমরান হোসেন এবং জিএম আবদুল কালামসহ ১০ কর্মকর্তা সহকারে কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে বোর্ড মিটিং। মিটিংটি বসে জেল সুপারের কক্ষের পাশে কনফারেন্স রুমে।
সে সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে অন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনেই টিটু প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে মারধর করে মুনীরকে। এ সময় মুনিরকে কিল, ঘুষি, লাথি ও চরমভাবে পেটায় টিটু। টিটু মারধর করার সময় মুনীরকে হুমকি দিয়েছে, “তুই যদি কেডিএস গ্রুপের আশপাশে যাছ তুই এবং তোর সন্তানকে একদম শেষ করে দিব।”
বাইরে এসে কোন ধরনের আইনী পদক্ষেপ বা কাউকে না জানানোর হুঁশিয়ারীও দেয়। কেডিএস এর মত বড় কোম্পানীর ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে ভয়ে মুনীর কোন প্রতিবাদ করেনি। তবে বিষয়টি উল্লেখ করে তার স্কুল বন্ধু সেলিম রহমানকে ২০১৮ সালের ১০ মে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে। মেইলে সে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানতে চায়। তার সাথে দেখা করতে চায়। কিন্তু কোন উত্তর সে পায়নি।
সেলিম রহমান এবং খলিলুর রহমানের সাথে বার বার দেখা করার অনুরোধ জানালেও তারা দেখা দিতে রাজি হয়নি। মেইলে মুনীর তাদেরকে জানিয়েছে যে, “সে স্ব-জ্ঞানে কখনোই কোম্পানীর স্বার্থবিরোধী কোন কাজ করেনি এবং কাউকে করতেও বলেনি।” কিন্তু তারা তার সাথে কোন ধরনের কথা বলতেও রাজী হয়নি। চিঠিতে মুনির হোসেন খান আরো উল্লেখ করেন, সেলিম রহমানের নির্দেশেই ২০১৮ সালের ২০ জুন পদত্যাগপত্র মেইল, রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সে পাঠায় এবং ফোন করে দেখা করার চেষ্টা করে।
২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর আরো একটি মেইল দেয়। ঐ মেইলেও তাদের সাথে দেখা করার আবেদন করে এবং তার সমস্ত পাওনা, বকেয়া বেতনের জন্য আবেদন করে। বার বার ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করে। কিন্তু তারা কোন সাঁড়া দেয়নি।
উপরন্ত এক বছরে ২৬ মামলা: ২০১৮ সালের জুন থেকে কেডিএস গ্রুপ থেকে চাকুরি ছেড়ে দেয়ার পর প্রায় দেড় বছর বেকার থাকে মুনির। এ সময় তার বকেয়া পাওনা এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কোম্পানির সাথে দেখা করতে চেয়েও দেখা পায়নি। এদিকে পরিবার নিয়ে কষ্টে পড়ে যায় মুনীর।
ইতোমধ্যে সবাই তাকে আমেরিকায় চলে গিয়ে সেখানে স্থায়ী হওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু মুনির নিজের আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে অন্যত্র যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৯ সালে মুনির হোসেন খান আর একটি কোম্পানী 'এ্যাপোলো স্টিল এর পরামর্শক' হিসাবে যোগদান করে। কোম্পানীটি পরবর্তীতে মুনিরের নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যে কেওয়াই স্টিলের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠে। এতে তারা আরো ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে এবং ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এই কোম্পানী ছেড়ে দেয়ার জন্য নানান হুমকি-ধুমকী তাকে দিতে থাকে। এতে ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশকে ব্যবহার করা শুরু করে দেয় কেডিএস গ্রুপ। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানায় একটি গাড়ি চুরির মামলা দেয়।
মামলায় যে সময়টা উল্লেখ করা হয়েছে সে সময় মুনির ঢাকায় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ছিলেন। ঐ সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ঐ সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ স্কুল থেকে সংগ্রহ করে আদালতে জমা দেয়া হয়। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই মামলায় জামিনের জন্য উপস্হিত হলে তারা আরো দুইটি ফৌজদারি মামলা দিয়ে তাকে জেলে প্রেরণ করে।
এভাবে মোট ২৬টা মামলায় তাকে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তমূলকভাবে কারাবাস করতে হচ্ছে। এমতাবস্হায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নিকট সুষ্ঠ তদন্ত নিশ্চিৎ করে দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে মুনীর হোসেন খানকে বেকসুর খালাস প্রার্থনা করছে তার জম্মদাতা পিতা ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন খান।
মুনীর হোসেন খান এসএসসি ৮৮ এর ছাত্র। সারা বাংলা ৮৮ এর সকল সদস্যের দাবী তদন্ত সাপেক্ষে সুস্ঠ বিচার চায় তারা। মুনীর হোসেন খান ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবী সারা বাংলা ৮৮ সদস্যদের।