সুপ্তির বাসায় ভাত খেতে আসা ‘আঙ্কেলকে’ খুঁজছে পুলিশ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 8 November, 2020, 11:31 AM
সুপ্তির বাসায় ভাত খেতে আসা ‘আঙ্কেলকে’ খুঁজছে পুলিশ
বিয়ের ৬০দিনের মাথায় খুন হন সুপ্তি মল্লিক। বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ পানওয়ালা পাড়ার নাসিমা মঞ্জিল নামের একটি ভবনের থেকে সুপ্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা সুপ্তিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। তবে সুপ্তির পরিবারের দাবি- স্বামীর পরিকল্পনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুপ্তির বাবা সাধন কুমার মল্লিক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সুপ্তির ভাসুর অনুপম চৌধুরী ও স্বামী বাসুদেব চৌধুরীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।
এদিকে ঘটনার তদন্তে আরেক ব্যক্তির তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। নাসিমা মঞ্জিল নামে ওই ভবনের চার তলায় বসবাসরত সুপ্তির প্রতিবেশী ফাতেমা ওই তৃতীয় ব্যক্তির কথা পুলিশকে জানান।
ফাতেমা বলেন, বুধবার দুপুরে সুপ্তি আমাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় ৩০ বছরের কাছাকাছি বয়সের এক ব্যক্তি আসলে সুপ্তি আমাকে বলল উনি তার আঙ্কেল। ‘আঙ্কেল ভাত খেতে এসেছেন। দুপুর ১২টায় এসে একবার বলে গিয়েছেন লাঞ্চ আমার বাসায় করবেন।’
সুপ্তির স্বামী ও ভাসুরকে এজাহারভুক্ত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আটক করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ, নেপথ্যে কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেশী বলেন, সুপ্তি যখন ওই যুবককে নিয়ে বাসায় ঢুকছিলেন তখন চা খাওয়াতে বলেছিলেন। আমার মেয়ে দুই কাপ চা নিয়ে ওদের রুমে দিয়ে এসেছিলো। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে যখন সুপ্তির কোন সাড়াশব্দ পাচ্ছিলাম না তখন দরজার পর্দা সরিয়ে দেখি দরজার বাইরে থেকে আটকানো। বেশ কয়েকবার নাম ধরে ডাকলেও কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পাশের বাসার ভাবী দরজার ছিদ্র দিয়ে তাকিয়ে দেখেন ভেতরে সুপ্তির জুতা রয়েছে। জুতা ভেতরে বাইরে দরজা লাগানো দেখে সন্দেহ হয়। দারোয়ান ইলিয়াসকে জানালে সে এসে দরজা খুলে দেখে সুপ্তির মরদেহ পড়ে আছে। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
সুপ্তিকে তার স্বামী ও ভাসুর হত্যা করেছে এমনটি দাবি করছেন ভাই প্রসেনজিৎ মল্লিক। সুপ্তির সঙ্গে কারো সম্পর্ক ছিলো কিনা জানতে চাইলে প্রসেনজিৎ জানান, তার বোন রাঙামাটি সরকারি কলেজে অনার্সে পড়ার সময় এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিলো। প্রায় আড়াই বছর আগে সেই সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে। বিয়ের আগে বিষয়টি বাসুদেবকে তারা বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তিনি সেটিকে কোন সমস্যা হিসাবে নেয়নি।
থানায় দায়ের করা মামলা এজাহারে বাবা সাধন কুমার বলেন, এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সুপ্তি বড়। চন্দ্রঘোনা হরিমন্দিরের পাশে তাদের বাসা। গত ১৩ আগস্ট বাসু দেবের সাথে সুপ্তির বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরই স্বামী তাকে পটিয়ায় নিয়ে আসেন। বিয়ের ৩/৪দিনের মাথায় সুপ্তি তার বাবাকে জানান, বাসুর সঙ্গে একাধিক মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করতো।
বিয়ের দশদিনের মাথায় সুপ্তি তার স্বামীর সঙ্গে ডবলমুরিং থানার পানওয়ালা পাড়ায় নছিমা মঞ্জিলের চতুর্থ তলায় ৫৩ নম্বর বাসায় চলে আসেন। ওই বাসার একটি রুমে ভাসুর অনুমপম চৌধুরীও থাকতেন। বাসু জামালখান এলাকায় একটি ফার্মেসি ও অনুপম সেলুনে চাকরি করেন। বুধবার রাত আটটার সময় খবর পেয়ে তারা পানওয়ালা পাড়ায় আসেন।
নগর পুলিশের পশ্চিম জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হুমায়ন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সুপ্তি মল্লিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ধারণা বুধবার বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।