ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬ ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
৫০টি খুনের পর আর হিসাব রাখিনি চিকিৎসক
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 2 August, 2020, 12:27 AM

৫০টি খুনের পর আর হিসাব রাখিনি চিকিৎসক

৫০টি খুনের পর আর হিসাব রাখিনি চিকিৎসক

দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, তারা এমন এক সিরিয়াল কিলারকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি অন্তত ৫০টা খুন করেছেন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন।  অপহরণ করে খুন করার পর একটি খালে মৃতদেহগুলো ফেলে দিতেন তিনি, যাতে কুমির সেগুলো খেয়ে ফেলে।  আর তাঁর অপরাধের প্রমাণও হারিয়ে যায়।  সেই সিরিয়াল কিলার একজন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক, বয়স ৬২ বছর।  তাঁর নাম দেভেন্দার শর্মা।  মঙ্গলবার রাতে দিল্লির উপকণ্ঠে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

জেরায় শর্মা জানান, এতগুলো খুন করেছেন তিনি যে ৫০টি খুনের পর আর হিসাব রাখেননি। খুন ছাড়াও কিডনিপাচার এবং আরো নানা জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওই ব্যক্তি, এমনটাই দাবি দিল্লি পুলিশের।

দিল্লির ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ পাওয়েরিয়া বলেন, আমাদের ধারণা এক শরও বেশি খুন করে থাকতে পারে এই ব্যক্তি। আমরা উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা আর দিল্লির পুরনো তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

বেশ কয়েকটি খুন আর অপহরণ আর একশরও বেশি কিডনিপাচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে রাজস্থানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন দেভিন্দার শর্মা।

১৬ বছর কারাবাসের পর জানুয়ারি মাসে তাঁকে ২০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল এবং তার পর থেকেই তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে যান। প্যারোল ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্যই তাকে খুঁজছিল দিল্লি পুলিশ। তারা জানতে পারেন যে, প্রথমে তিনি দিল্লিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। তারপর তিনি বাপরোলায় চলে যান। সেখানে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়াকে বিয়ে করে জমি ও  বাড়ির দালালি করছিলেন এবং দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসের একটি বাড়ি বিক্রি করার চেষ্টা করছিলেন জয়পুরের এক ব্যবসায়ীর কাছে।

এসব সূত্রই দিল্লি পুলিশের কাছে এসে পৌঁছে আর তাঁর বাসস্থানে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ডিসিপি ক্রাইম পাওয়েরিয়া জানিয়েছেন। একজন চিকিৎসক থেকে সাংঘাতিক খুনি হয়ে ওঠার যে বিবরণ শর্মা জেরার সময় পুলিশকে দিয়েছেন, তা খুবই অদ্ভুত। বিহার থেকে ডাক্তারি পাস করে তিনি রাজস্থান চলে যান আশির দশকের মাঝামাঝি। নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় তিনি একটা রান্নার গ্যাসের এজেন্সি নিতে চেষ্টা করেন। এর জন্য তাঁর ১১ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেলেও তিনি ধোঁকা খান। নেমে আসে আর্থিক অনটন।

তার পরই ধীরে ধীরে তাঁর অপরাধ জীবনের শুরু। তিনি জাল গ্যাস এজেন্সি খোলেন উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে। আবার ওদিকে রাজস্থানে কিডনিপাচার চক্রের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েন। ১২৫টি কিডনি তিনি পাচার করেছেন, যার প্রতিটার জন্য পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা পেতেন। ২০০১ সালে জালিয়াতির জন্য ধরাও পড়েন উত্তর প্রদেশে, জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এর পরই তিনি একের পর এক খুন করতে শুরু করেন। তাঁর খুন করার কায়দাটা ছিল অভিনব। তিনি এবং সঙ্গীসাথিরা একটি গাড়ি ভাড়া করতেন উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে যাওয়ার জন্য। চালককে একটা নির্জন জায়গায় গিয়ে খুন করে কাশগঞ্জের হাজারা খালে ফেলে দেওয়া হতো বলে পুলিশ জেরা থেকে জেনেছে। ওই খালটিতে প্রচুর কুমির রয়েছে। মৃতদেহ সেগুলোই খেয়ে ফেলত। তাই দেহ আর খুঁজে পাওয়া যেত না। একইভাবে রান্নার গ্যাসভর্তি ট্রাকও ছিনতাই করে চালককে হত্যা করে মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হতো ওই খালে।

পাওয়েরিয়া জানান, তাঁরা রাজস্থান পুলিশকে জানিয়েছেন যে দেভিন্দার শর্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি যেহেতু ওই রাজ্যেই বন্দি ছিলেন, তাই তারাই ধৃতকে নিয়ে যাবেন এখন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status