পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিমানের (পিআইএ) ওপর আগামী ছয় মাসের জন্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, পাইলটদের অযোগ্যতাকে। সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় বিমানসংস্থা প্রায় এক তৃতীয়াংশ পাইলটকে বহিষ্কার করেছে ভুয়া অথবা সন্দেহজনক ফ্লায়িং লাইসেন্স থাকার অপরাধে। এই বিষয়টিকেও তুলে ধরা হয়েছে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অ্যাভিয়েশন সেফটি এজেন্সির পক্ষ থেকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিমানকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকি পাইলটরা কতটা দক্ষ এবং তাদের আদৌ কোনো যোগ্যতা আছে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে সংস্থাটির। এয়ারলাইন্সের ওপর আস্থা হারিয়েছে ইউরোপিয়ান সংস্থা। সংবাদমাধ্যম এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অ্যাভিয়েশন সেফটি এজেন্সি মুখপাত্র আব্দুল্লা খান।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অ্যাভিয়েশন সেফটি এজেন্সির পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সংসদে সম্প্রতি যে তদন্তের তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে তাতেই স্পষ্ট পাকিস্তানের জারি করা বড় অংশের ফ্লায়িং লাইসেন্সের কোনো মূল্য নেই। আর ঠিক এই কারণেই পিআইএ এবং আরো একটি বেসরকারি পাকিস্তানি বিমানসংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে।
পাকিস্তানের সরকারি এক তদন্তে দেখা গেছে দেশের আটশ ৬০ জন পাইলটের মধ্যে দুই ৬২ জন পাইলটের কাছে রয়েছে ভুয়া লাইসেন্স অথবা পরীক্ষায় নকল করে পাস করেছেন। তারই মধ্যে পিআইতে কর্মরত চারশ ৩৪ জন পাইলটের মধ্যে একশ ৪১ জনের কাছে রয়েছে জাল লাইসেন্স।
এই তথ্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সংসদে জানিয়েছে দ্রুত তিনি পিআইসহ আরো বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের কাজে হাত দেবেন। মঙ্গলবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘দেশবাসীকে একটাই কথা বলতে চাই। আমাদের কাছে আর কোনও উপায় নেই সংস্কার ছাড়া।’
প্রসঙ্গত, ২২ মে করাচি শহরের বাড়ির উপরেই ভেঙে পডড়ে পিআইর একটি বিমান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৯৭ জন যাত্রীর। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় কোনো যান্ত্রিক সমস্যা নয়, দুই পাইলট মত্ত ছিলেন করোনা সংক্রান্ত আলোচনায়। আর তাদেরই অসাবধানতার কারণেই ঘটে এই দুর্ঘটনা।