বাগদাদ বিমানবন্দরে উদ্বোধন করা হলো জেনারেল সোলাইমানি মেমোরিয়াল
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 20 June, 2020, 10:28 PM
বাগদাদ বিমানবন্দরে উদ্বোধন করা হলো জেনারেল সোলাইমানি মেমোরিয়াল
জেনারেল কাশেম সোলাইমানি শুধু ইরানের নয়, পুরো আরব বিশ্বের বীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ক্যারিশম্যাটিক কমান্ডার হিসেবে সারা পৃথিবীতে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার বুদ্ধি-সাহস, নেতৃত্বের গুণাবলী ও যুদ্ধক্ষেত্রের বিচক্ষণতার গল্প ছিলো মানুষের মুখে মুখে।ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাসেম সোলাইমানি ও আবু মাহদী আল মুহান্দেসের স্মরণে মেমোরিয়াল উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এই স্মৃতিচিহ্ন উদ্বোধন করা হয়।
বাগদাদ বিমানবন্দরে ঢুকতে গেলেই চোখে পড়বে বিশাল এক দেওয়াল যেখানে দক্ষ শিল্পীর হাতে অঙ্কিত হয়েছে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সুলাইমানি ও ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের উপ-প্রধান শহীদ আবু মাহদি আল মুহান্দেসের ছবি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। যেখানে তাদের উপর হামলা হয়েছে; সেখানেও ফুল দিয়েছেন ইরাকিরা। স্মৃতিচিহ্নটির নাম দেয়া হয়েছে ‘জামালুন নাসর’ বা বিজয়ের সৌন্দর্য।
গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের বাইরে মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় নিহত হন ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের উপ-প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দেসসহ ১০ সামরিক কর্মকর্তা। এর দুদিন পরই ইরাকের সংসদে মার্কিন সেনাদের বহিষ্কারের প্রস্তাব পাস হয়।
তেহরানের আঞ্চলিক শত্রু সৌদি আরব ও ইসরাইলের মাথাব্যথার কারণ ছিলেন কাশেম সোলাইমানি। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তার বীরত্বপূর্ণ অবদান সবার নজরে আসে। গত ২০ বছরে বহুবার যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আরবের বিভিন্ন সংগঠন তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। তবে, প্রতিবারই তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
২০১১ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বারবার পরাজয়ের মুখে পড়লে, তার সমর্থনে এবং ইরানের বাইরে অভিযানের দায়িত্ব নেয় কাশেম সোলাইমানির কুদস বাহিনী। দায়িত্ব নিয়েই তিনি সফলভাবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন ও ইরাকের ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) পরাজিত করেন।
কাশেম সোলাইমানি ইরানের পূর্ব সীমান্তে মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেও সফল ছিলেন তিনি। ওই এলাকার সন্ত্রাসীদের দমন করেন এবং সেখানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।