|
১ টাকা সমান ১৪ হাজার ইরানি রিয়াল, কী কী নোট আছে দেশটিতে?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ১ টাকা সমান ১৪ হাজার ইরানি রিয়াল, কী কী নোট আছে দেশটিতে? ধরা যাক, কেউ ইরানের কোনো বাজারে গিয়ে বাংলাদেশি ১,০০০ টাকা সমমূল্যের কেনাকাটা করলেন। এখন সেই টাকা ইরানি রিয়ালে পরিশোধ করতে হলে তাকে দিতে হবে ১ কোটি ৪০ লাখ রিয়াল! আর বাজারে থাকা ১,০০০ রিয়ালের কাগুজে নোটে তা মেটাতে গেলে গুনতে হবে পুরো ১৪ হাজারটি নোট! এই নোটগুলো একটির ওপর আরেকটি সাজালে তার উচ্চতা দাঁড়াবে ৪ ফুট ৭ ইঞ্চি—যা প্রায় একজন মানুষের সমান উঁচু! এখন প্রশ্ন হচ্ছে—ইরানিরা কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ মুদ্রা ব্যবহার করছেন? সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কমাতে ইরানের ইসলামি সরকার তাদের ব্যাংক নোটের মূল্যমান বাড়ায়। বাংলাদেশে যেমন সর্বোচ্চ নোট ১,০০০ টাকার, ইরানে সাধারণ ব্যাংক নোটের সর্বোচ্চ মান ১ লাখ রিয়াল। এ ছাড়া ২ হাজার, ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার ও ৫০ হাজার রিয়াল মূল্যমানের ব্যাংক নোটও চালু রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে। তবে ১ লাখ ইরানি রিয়ালের বাস্তব মূল্যও খুব নগণ্য—বাংলাদেশি মুদ্রায় যা মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকার সমান। ফলে এই মূল্যের নোট দিয়ে দৈনন্দিন লেনদেন চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং কেনাকাটায় বস্তা ভর্তি টাকা বহনের ঝক্কি কমাতে ২০০৮ সাল থেকে এক অভিনব পদক্ষেপ নেয় ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিআই)। তারা উচ্চ মূল্যমানের বিশেষ গ্যারান্টিযুক্ত ‘ইরান চেক’ বা ক্যাশ ব্যাংকনোট বাজারে চালু করে, যা বর্তমানে দেশটির লেনদেনের প্রধান চালিকাশক্তি। বর্তমানে বাজারে প্রচলিত প্রধান ‘ইরান চেক’গুলো হলো- ৫ লাখ, ১০ লাখ ও ২০ লাখ রিয়ালের নোট। মধ্যম মান হিসেবে রয়েছে ৫০ লাখ রিয়ালের নোট। আর দেশটির বাজারে থাকা সবচেয়ে বড় নোটটি হলো ১ কোটি ইরানি রিয়ালের। ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা যে শোচনীয়, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু এমন ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও নিজেদের সামরিক শক্তি ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে তেহরান—যা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না ইসরায়েল, সৌদি আরব কিংবা আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
