|
পিচ্চি রাজার পলায়ন, সেই প্রিজনভ্যান চালকের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() পিচ্চি রাজার পলায়ন, সেই প্রিজনভ্যান চালকের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় প্রিজনভ্যানের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকারও প্রমাণ পেয়েছেন তারা। এছাড়া এক পুলিশ সদস্যের বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইর হাওলাদার বলেন, প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পিচ্চি রাজাকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু কত টাকার বিনিময়ে কাজটি তারা করেছেন, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ভ্যানচালক নায়েক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এরইমধ্যে এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকায় দুই পুলিশ সদস্য ও পিচ্চি রাজার বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন প্রিজনভ্যানের দায়িত্বে থাকা এসআই (এবি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস, চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১২টায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে এই ঘটনায় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জিএমপির কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকায় ২৯ জন আসামিকে নিয়ে প্রিজনভ্যানটি ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরছিল। পথে কারাগারের হাজতি বন্দি নম্বর ০৩৪৭৪/২৬ রাজা ওরফে বাদশা ওরফে পিচ্চি রাজা (৩৪) প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে বাইমাইল এলাকায় শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। তবে তদন্তে সেই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, ২৯ জন আসামিকে নিয়ে প্রিজনভ্যানটি ঢাকার তাঁতিবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে পৌঁছালে সেখানে গাড়িটি থামানো হয়। এরপর প্রিজনভ্যানের দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নেন। তিনি পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে ভ্যানের সামনের দিকে নিয়ে যান। এরপর খাইরুল বাশার প্রিজনভ্যানের চালকের আসনের পাশে বসেন। কিন্তু পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কুমার আর প্রিজনভ্যানে ওঠেননি। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখান থেকেই অপেক্ষমাণ একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে এসআই প্রবীর কুমার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। এরপর প্রিজনভ্যানে উঠে অন্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাজানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারা হলেন এসআই (এবি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, কনস্টেবল মো. সাকিব, কনস্টেবল শাকিল হোসেন এবং চালক নায়েক কামাল হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে। এদিকে, পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামি ও পলাতক পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তভারে আছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগ। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবি দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলাম। জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তদন্তের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। গত ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, তিনি ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের একজন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
