ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬ ● ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান
শ্রমিকদের মিছিল-সমাবেশ, সড়কে যান চলাচল বন্ধ
মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম
প্রকাশ: Monday, 5 October, 2026, 4:59 PM

শ্রমিকদের মিছিল-সমাবেশ, সড়কে যান চলাচল বন্ধ

শ্রমিকদের মিছিল-সমাবেশ, সড়কে যান চলাচল বন্ধ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সোমবার সকাল থেকে নগরের বন্দর এলাকায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি শুরু হয়। শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বন্দর রক্ষা কমিটির উদ্যোগে এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে যোগ দেন। পরে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা অবস্থান নেন।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বন্দর এলাকার আশপাশে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সড়কে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। এ সময় জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ শ্রমিক নেতারা বক্তব্য দেন।

‘এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়া যাবে না’

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বন্দর কর্তৃপক্ষের অন্যতম লাভজনক স্থাপনা। বন্দরের অর্থে নির্মিত এবং দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ অযৌক্তিক।

তারা বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় চলে গেলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। শুধু শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নয়, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বন্দর নিরাপত্তার বিষয়টিও এর সঙ্গে জড়িত।

বক্তারা আরও বলেন, এনসিটি পরিচালনার সক্ষমতা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের রয়েছে। বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটি পরিচালনা করে যে পরিমাণ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও রাজস্ব আয় করা সম্ভব, তা কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

‘শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকিতে’

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে দীর্ঘদিন ধরে এই টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের জীবিকা এই টার্মিনালের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

তাদের দাবি, ইজারা চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, ব্যবসায়ী, বন্দর ব্যবহারকারী এবং অংশীজনদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। দেশের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা শ্রমিকদের পাশাপাশি বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

‘বন্দরের সক্ষমতা রয়েছে’

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরই নয়, এটি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের বড় একটি অংশ এ বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার বিষয়টি গভীরভাবে যুক্ত।

তাদের ভাষ্য, বন্দরের নিজস্ব দক্ষ জনবল, অবকাঠামো ও পরিচালন সক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজন হলে আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করে এনসিটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বন্দরের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে টার্মিনালটি বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালনা করতে হবে।

কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা

এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও আপত্তি রয়েছে। সোমবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

শ্রমিক নেতারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তাদের দাবি, এনসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বন্দর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status