ভারতে আরও ১৪ দিন বাড়ানো হয়েছে লকডাউন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে জেঁকে বসা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ১৭ মে পর্যন্ত পর্যন্ত বন্দিদশা থাকবে দেশটিতে। এই অবস্থায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। বিপাকে সুরাপ্রেমীরা। তাই তাদের কথা চিন্তা করে লকডাউনর বৃদ্ধির মধ্যেও মদের দোকানগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা ২৪’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শর্ত সাপেক্ষে মদের দোকান খুলতে ছাড়পত্র দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। তবে শুধু গ্রিন জোনে থাকা জেলাগুলোতেই খুলবে দোকানগুলো।
দেশটির সংবাদসংস্থা এএনআই বলেছে, দোকানে ভিড় যাতে না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে মালিকদের। অবশ্যই ছয় ফুটের দূরত্ব বজায় থাকতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। এ ছাড়া পাঁচজনের বেশি যেন দোকানের সামনে না দাঁড়ায় সে দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
নির্দেশ অমান্যে দোকান মালিকের উপর কড়া ব্যবস্থা নিতে পারবে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ থেকে ভারতে লকডাউন চলছে। সেখানে নতুন করে আরও ১৪ দিন বাড়ল। দেশটিতে করোনাভাইরাস জেঁকে বসায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম এনডিটিভি।
করোনা পরিস্থিতিতে আগামী ১৪ দিন কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের কার্যকলাপ চলবে বা যা করা হবে না, সে বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র। গ্রিন জোন এবং অরেঞ্জ জোনে অনেক বিধিনিষেধই শিথিল করার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভারতে করোনাভাইরাস মহামারিতে নতুন করে ৭২ জনসহ আজ শুক্রবার পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১৪৭ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৪৩ জনে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে মারা যাওয়া ৭২ জনের মধ্যে ২৭ জন মহারাষ্ট্রে, ১৭ জন গুজরাটে, ১১ জন পশ্চিমবঙ্গে, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে সাতজন করে এবং দিল্লিতে তিনজন মারা গেছেন। মোট মৃত এক হাজার ১৪৭ জনের মধ্যে মহারাষ্ট্রে ৪৫৯ জন, গুজরাটে ২১৪ জন, মধ্যপ্রদেশে ১৩৭ জন, দিল্লিতে ৫৯ জন, রাজস্থানে ৫৮ জন, উত্তর প্রদেশে ৩৯ জন, পশ্চিমবঙ্গে ৩৩ জন এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ৩১ জন।