ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২৬ ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
করোনার চিকিৎসায় যে ওষুধটি খেতে বলা হচ্ছে সেটি আসলে কী?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 24 March, 2020, 9:20 PM

করোনার চিকিৎসায় যে ওষুধটি খেতে বলা হচ্ছে সেটি আসলে কী?

করোনার চিকিৎসায় যে ওষুধটি খেতে বলা হচ্ছে সেটি আসলে কী?

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ক্লোরোকুইন এবং হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইনকে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য অনুমোদন দিয়েছে।


তবে ভাইরাসজনিত অসুস্থতার সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসেবে এই ওষুধগুলোর ব্যবহার এটাই প্রথম নয়। এর আগে ফ্রান্সেও হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইনের প্রাথমিক পরীক্ষার আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখা গেছে।


ফলাফলগুলো প্রমাণ করেছে যে ৫০ শতাংশ রোগী যারা প্রাথমিকভাবে ভাইরাসের জন্য ফলাফল পজিটিভ পরীক্ষা করেছিলেন; এই ওষুধ সেবনের মাধ্যমে মাত্র তিন দিন পর ভাইরাস নেগেটিভ দেখিয়েছে।


যদিও এটি ভাইরাসের জন্য কার্যকর সমাধান কিনা তার ফলাফলগুলো এখনও অত্যন্ত অস্পষ্ট, তবে এই ড্রাগটি আসলে কী সেটা জানা জরুরি।


ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালে প্রধানত ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসায় অনুমোদিত হয়েছিল হাইড্রোক্সাইক্লোরকুইন (প্ল্যাকুইনিল ব্র্যান্ড নামে বিক্রি করা হয়)।


তখন থেকে ওষুধগুলো সিস্টেমেটিক লুপাস এরিথেমেটাস (সাধারণত লুপাস হিসাবে পরিচিত), রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস এমনকি লাইম রোগের জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।


এটি দেহের অনাক্রম্য প্রতিক্রিয়াকে নিষ্ক্রিয় করে এবং গুরুত্বপূর্ণ কোষ প্রক্রিয়াগুলোকে ব্যাহত করতে আণবিক স্তরে কাজ করে। প্রাকৃতিক অনাক্রম্য প্রতিক্রিয়া প্রদাহ এবং অন্যান্য সাধারণ রোগের লক্ষণগুলো যেমন ব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদির জন্য দায়ী। তাই এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাটি রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো সিস্টেমিক রোগগুলো কমাতে কাজ করে।


এই ওষুধ হাইড্রোঅক্সিক্লোরোকুইন গোত্রের যা আর্থ্রাইটিসসহ কিছু রোগের চিকিৎসায় এর ব্যবহার দেখা যায়। এই ওষুধ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকেও নির্মূলে কার্যকর হতে পারে।


গত ৯ মার্চ ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজ জার্নালে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।


চীনের উহানের সায়েন্স একাডেমি এক চিঠিতে উল্লেখ করে, আমরা অনুমান করছি এই ওষুধের করোনা প্রতিরোধে কার্যকর সক্ষমতা রয়েছে।


ফ্রান্সের এক দল স্বাস্থ্য গবেষক বিস্তৃতভাবে এর পরীক্ষা করেছেন। তারা ৩৬ রোগীর ওপর এর পরীক্ষা করেছেন। এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন মার্সেলির বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দিদিয়ের রাউলট।


গবেষণায় প্রত্যেক রোগীকে প্রতিদিন ৬০০ মি.গ্রা. প্ল্যাকুইনিল খেতে দেয়া হয়। গবেষকরা জানান, তৃতীয় দিনেই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৫০ ভাগ সুস্থ হয়ে ওঠেন। ষষ্ঠ দিনে সুস্থ হন ৭০ ভাগ।


এদের মধ্যে ২০ জনকে প্ল্যাকুইনিলের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাজিথ্রোমাইসিন দেয়া হয়। ষষ্ঠ দিনে তাদের সবাই সুস্থ হয়ে ওঠেন।


হাইড্রোক্সিলোরোকুইনের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। কারো যদি মাথাব্যথা, ক্ষুধা হ্রাস, বমি বমি ভাব, ত্বকের ফুসকুড়ি ইত্যাদি থাকে তবে তাদের ক্ষেত্রে এটা কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা।


তবে এই ওষুধগুলো ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো; এগুলো বাজারে খুব সহজেই পাওয়া যায়। এছাড়া এই ওষুধগুলো অনেকেই ব্যবহার করে বলে এর প্রকৃত রোগীর কাছে এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং কার্যকারিতা সম্পর্কিত অনেক তথ্য পাওয়া যায়। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status