ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২৩ মে ২০২৬ ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
করোনাভাইরাস পরীক্ষায় আখাউড়া স্থলবন্দরে গাফিলতি!
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 9 March, 2020, 8:47 PM

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় আখাউড়া স্থলবন্দরে গাফিলতি!

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় আখাউড়া স্থলবন্দরে গাফিলতি!

সকালে আসতে দেরি, বিকেলে যাওয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই। এই ফাঁকে যাওয়া-আসা করলো অন্তত ১০০ যাত্রী, যাদের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়নি। বলা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লোকবল সংকটের কারণে এমন হয়েছে।

এমন অবস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে। দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পরও এমন ঘটনাকে যাত্রীরা ‘গাফিলতি’ হিসেবেই দেখছেন।

আজ সোমবার সকালে ও বিকেলে বন্দরটিতে গাফিলতির চিত্র চোখে পড়ে। যাত্রী পারারপার অব্যাহত থাকার প্রায় ঘণ্টা তিনেকের মতো সময় করোনাভাইরাস পরীক্ষায় সেখানে সংশ্লিষ্টরা ছিলেন না।

এ বিষয়ে হতাশাজনক কথা বলেছেন আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও)। সোমবার রাতে মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, এ বন্দরে সকালে তিনজন ও বিকেলে দুইজন দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আজ সভা থাকায় ও টিকা বিষয়ে ক্যাম্পিং থাকায় পুরো সময় থাকতে পারেননি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যাত্রী পারাপার কমে যাওয়ার খুব একটা সমস্যা হবে না। ভারতীয়রাও করোনা পরীক্ষা সংক্রান্ত লোকবল কমিয়ে নিয়েছে। আমাদের এখানে আগামী মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত লোকবল সমস্যা থাকবে। সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বললে অন্য উপজেলা থেকে লোক এনে দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন।

এদিকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, জার্মানি ও সিঙ্গাপুরের ৭০ জন নাগরিক আশুগঞ্জের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যেন না আসেন সে বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে আজ সোমবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকে ডাক যোগে এ চিঠি পাঠানো হয়। আগামী ২৬ মার্চ ওই বিদেশি নাগরিকরা আসার কথা রয়েছে। অপরদিকে কসবার সীমান্ত হাট দুই মাসের জন্য বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন সিভিল সার্জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া স্থলবন্দরের নো-ম্যানসলান্ডে দুইপারে বাংলাদেশ ও ভারতের পৃথক দল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত পরীক্ষা করে। থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় এখানে। তবে সোমবার নির্ধারিত সময় সকাল সাতটায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টরা আসেননি। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ যাত্রী পারাপার হলেও পাঁচটার দিকেই চলে যান তারা। ওই সময়ে অন্তত একশ যাত্রী এপার-ওপায় যাতায়ত করেন। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত ভারতীয়রা ওই সময়েও ওপারে ছিলেন। মূলত সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার হয়।  

এদিকে সকালে শারিরিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রত্যেক যাত্রীর মাস্ক পড়া থাকা বাধ্যতামূলক করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকেও একই কথা বলা হয়। এ নিয়ে যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিলে পরে বিষয়টি শিথিল করা হয়। তবে অন্যদিনের তুলনায় সোমবার যাত্রীরা অনেক সচেতন ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।

বিকেলে চেক আপ ছাড়া ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা মনুধির  রায়, প্রীতি রায়, অঙ্কিতা রায়, রুহিত রায়, আবুল ইসলাম, সাফিয়া বেগম, রাজেশ সাহাসহ আরো অন্তত ২০ জনের সাথে কথা হয়। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে যেহেতু করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে কর্তৃপক্ষের উচিত এ ব্যপারে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনা করা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বলেন, করোনাভাইরাস বিষয়ে আমরা সতর্ক। এখনো  উদ্বোধন না হওয়া বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেসকে কোয়ান্টারাইন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে কক্ষ খোলা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, টিকা সংক্রান্ত কাজের কারণে আখাউড়া বন্দরে সমস্যা হচ্ছে। অন্য উপজেলা থেকে এনে লোকবল ঠিক রাখার চেষ্টা করা হবে।   

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status