|
ভয়-প্রলোভনে নারী শিকার, নর্থ সাউথ ট্রাস্টি শাহজাহানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ভয়-প্রলোভনে নারী শিকার, নর্থ সাউথ ট্রাস্টি শাহজাহানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ গত ১৪ মে ইউজিসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে কমিশনকে জানাতে বলা হয়। একজন অভিভাবকের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউজিসির পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূইয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগের শিরোনামই ছিল বিস্ফোরক—“যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের দুর্নীতিবাজ সদস্য মো. শাহজাহানের কালো থাবা হতে বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা”। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে শাহজাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এক ধরনের অঘোষিত ক্ষমতার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যেখানে ভয়, প্রভাব ও অর্থের জোরে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রীদের ভয়ভীতি ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানির শিকার করা হয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী ল্যাব ইনস্ট্রাক্টরকে শাহজাহানের গাড়িতে শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ আরও বলছে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওই নারীর বেতন এক লাফে ৬০ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেয়া হয়। এতেই শেষ নয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাবে আদিবা ইবনাত বুশরা নামে একজনকে সিপিসি বিভাগে চাকরি এবং এমবিএ কোর্সে শতভাগ ওয়েভার পাইয়ে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। একইভাবে প্রিয়াঙ্কা ও সুস্মিতা হালদার নামে দুই কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি ও পদোন্নতি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, শাহজাহান শুধু যৌন হয়রানিতেই সীমাবদ্ধ নন; তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজেও গড়ে তুলেছেন কমিশন বাণিজ্যের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে ভর্তি করানো এবং প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করে স্কলারশিপ বাণিজ্য চালানো হতো একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে, যার নেতৃত্বে ছিলেন শাহজাহান নিজেই। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে সাহস পান না। কারণ, শাহজাহানের ক্ষমতার বলয়ের কারণে অতীতেও একাধিক অভিযোগ রহস্যজনকভাবে চাপা পড়ে গেছে। সাবেক এক নারী শিক্ষকের যৌন হয়রানির অভিযোগও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি না থাকাকে এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন—উচ্চশিক্ষার পবিত্র পরিবেশ কি এখন ক্ষমতাবানদের ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে? এখন সবার চোখ ইউজিসির তদন্তের দিকে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতে এটি হতে পারে অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ভয়-প্রলোভনে নারী শিকার, নর্থ সাউথ ট্রাস্টি শাহজাহানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ
শত ব্যস্ততার মাঝেও মানবিকতার আলো ছড়াচ্ছেন চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ
ছয় মাসের সাফল্য-চ্যালেঞ্জের খতিয়ান নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ
মাছ না মিললে চালও জোটে না: হালদা পাড়ে সেলাই মেশিনে নতুন স্বপ্ন, পাশে ডিসি জাহিদ
