ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ● ১ কার্তিক ১৪৩৩
দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলীফ ফকির হত্যা, অবশেষে মামলা
ধনেশ পত্রনবীশ, দুর্গাপুর
প্রকাশ: Saturday, 17 October, 2026, 3:35 PM

দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলীফ ফকির হত্যা, অবশেষে মামলা

দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলীফ ফকির হত্যা, অবশেষে মামলা

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে ছায়াতদন্ত শুরু করেছে এসআরবি- ১৪, ময়মনসিংহ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যে স্থানে হত্যা করা হয়েছিল ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এসআরবি- ১৪, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাসুদ রানা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মো. মাসুদ রানা জানান, তাঁরা ছায়াতদন্তে নেমেছেন এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছেন।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পোস্টমর্টেম শেষে নিহতের মরদেহ তাঁর নিজ গ্রাম নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকির ‘রূপসী বাংলা’ টেলিভিশনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন এবং সেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে ভিডিও প্রকাশ করতেন। 

নিহত আলীফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মহব্বত আলী ফকির। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানদের নিয়ে তেলুঞ্জিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসআরবি- ১৪ ময়মনসিংহের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ছায়াতদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রশাসন, গোয়েন্দা বিভাগ, এসআরবি- ১৪ সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করছে। ঘটনাস্থলে গুলির খোসা পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তাগণ। 

তিনি হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ সময় তথ্য দেওয়ার জন্য একটি হটলাইন নম্বরও প্রদান করেন তিনি। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে আলীফ ফকির তেলুঞ্জিয়া এলাকার এক চায়ের দোকান মালিক রবিন রাংসার দোকানে আগে রেখে যাওয়া মুঠোফোন নিতে যান। এ সময় দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে সাংবাদিক আলীফকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী চায়ের দোকানমালিক রবিন রাংসা জানান, ঘটনার আগে দুই ব্যক্তি তাঁর দোকানে এসে সিগারেট কেনেন। তাঁদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর এবং একজন লুঙ্গিপড়া অপরজন থ্রি কোয়াটার প্যান্ট। এর আগে আলীফ ফকির তাঁর দোকানে একটি মুঠোফোন রেখে গিয়েছিলেন। পরে সেটি নিতে তিনি দোকানে আসেন। এরপর ওই দুই ব্যক্তি সিগারেট নিয়ে আলীফের পিছু নেন। কিছুক্ষণ পর তিনি পরপর তিনটি 
গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে ভয়ে তিনি দোকান থেকে বাড়ির ভেতরে চলে যান।
স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত আনন্দিতা সাংমা বলেন, “আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। যারা আমার দুই বাচ্চাকে এতিম করেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করা হোক।” যাতে আর কোন সন্ত্রাসী কাউকে এভাবে হত্যা করতে না পারে। 

তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন। স্বামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

পরবর্তিতে পোস্টমর্টেম (ময়নাতদন্ত) শেষে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরের মরদেহ তাঁর নিজ গ্রাম নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির আঘাত রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আজ নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে একজন সাংবাদিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে মানববন্ধন সহ প্রতিবাদ সমাবেশ। নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status