ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট: সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও পুনরুদ্ধার
ডা. তামান্না আহমেদ
প্রকাশ: Sunday, 20 September, 2026, 7:57 PM

ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট: সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও পুনরুদ্ধার

ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট: সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও পুনরুদ্ধার

বহির্বিশ্বের পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশেও স্তনের আকৃতি বা আকার পরিবর্তনে ইমপ্ল্যান্টের ব্যবহার বাড়ছে। তবে অস্ত্রোপচারের আগে এর সম্ভাব্য সুফল, ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলো জানা জরুরি।

স্তনের আকার ও আকৃতি নিয়ে অনেক নারীর মধ্যেই নানা ধরনের উদ্বেগ থাকে। কারও জন্মগতভাবে স্তনের আকার ছোট হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে ওজন কমে যাওয়া, সন্তান জন্মদান বা স্তন্যদানসহ বিভিন্ন কারণে স্তনের আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কেউ কেউ স্তনের আকার বা আকৃতি পরিবর্তনের জন্য ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টের কথা বিবেচনা করেন।

ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট হলো স্তনের ভেতরে বিশেষ ধরনের মেডিকেল ডিভাইস স্থাপন করার একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি। এটি শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়, কিছু ক্ষেত্রে স্তন পুনর্গঠনের জন্যও ব্যবহার করা হয়। যেমন স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের পর স্তনের আকৃতি পুনর্গঠনের প্রয়োজন হলে ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

কেন ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট?
স্তনের আকার বাড়ানো বা আকৃতিতে পরিবর্তন আনার জন্য ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট করা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে দুই স্তনের আকারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলেও এই পদ্ধতি বিবেচনা করা হতে পারে।

তবে ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টকে শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। স্তন পুনর্গঠন বা শরীরের গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেও এই অস্ত্রোপচারের ভূমিকা রয়েছে।

কীভাবে করা হয়?
সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্তনের টিস্যুর নিচে বা বুকের পেশির নিচে ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। কোন ধরনের ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করা হবে এবং কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নির্ভর করে রোগীর শারীরিক গঠন, কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর।

অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক রোগীর স্বাস্থ্যগত অবস্থা, প্রত্যাশা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ইমপ্ল্যান্টের ধরন ও আকার নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ।

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে
শরীরের কোনো অংশের আকৃতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্বস্তি বা উদ্বেগ কারও আত্মবিশ্বাসে ও মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এলে কিছু মানুষের নিজের শরীর সম্পর্কে সন্তুষ্টি ও আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে। তবে অস্ত্রোপচারের ফলাফল নিয়ে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা থাকা জরুরি।

ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট করলেই যে প্রত্যেকের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা চিকিৎসকের সঙ্গে পরিষ্কারভাবে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ঝুঁকি কি নেই?
অন্য যেকোনো অস্ত্রোপচারের মতো ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রেও কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ, রক্তপাত, ব্যথা, দাগ, স্তনের অনুভূতিতে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া ইমপ্ল্যান্টের চারপাশে শক্ত টিস্যু তৈরি হয়ে স্তন শক্ত বা অস্বাভাবিক আকৃতির হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। সময়ের সঙ্গে ইমপ্ল্যান্টে পরিবর্তন বা ক্ষতি হলে অতিরিক্ত চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

ইমপ্ল্যান্ট কি আজীবন থাকে?
ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টকে আজীবন স্থায়ী কোনো ডিভাইস হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। সময়ের সঙ্গে ইমপ্ল্যান্টে পরিবর্তন বা জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা অপসারণ বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

তাই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু তাৎক্ষণিক ফলাফল নয়, ভবিষ্যতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে
ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট করানোর সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিজ্ঞ প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জনের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মূল্যায়নের পর রোগীর জন্য পদ্ধতিটি উপযুক্ত কি না, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।

সৌন্দর্যবোধের পাশাপাশি নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শরীরের পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে সম্ভাব্য সুফল, ঝুঁকি, ভবিষ্যৎ চিকিৎসা এবং নিজের প্রত্যাশা—সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

লেখক: ডা. তামান্না আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক, প্লাস্টিক সার্জারি।  

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status