ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৯ জুন ২০২৬ ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বিপৎসীমা অতিক্রমের ১২ ঘণ্টা পর কমছে তিস্তার পানি, কাটেনি বন্যার শঙ্কা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 29 June, 2026, 11:57 AM

বিপৎসীমা অতিক্রমের ১২ ঘণ্টা পর কমছে তিস্তার পানি, কাটেনি বন্যার শঙ্কা

বিপৎসীমা অতিক্রমের ১২ ঘণ্টা পর কমছে তিস্তার পানি, কাটেনি বন্যার শঙ্কা

উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টির কারণে নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার ১২ ঘণ্টা পর তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে যেকোনো মুহূর্তে আবার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় ডালিয়া পানি পরিমাপক পয়েন্টে (খালিশাচাপানি বাইশপুকুর) তিস্তার প্রবাহ বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫) দুই সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ১৩) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। 

এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ২২) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল বলে জানান তিনি।

প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, রোববার রাত ৮টায় পানি আরও পাঁচ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে রাত ৯টা থেকে পানি প্রবাহ কমতে শুরু করে। তবে সোমবার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার সমান ছিল।

এরপর সকাল ৯টায় তা কমে ৫২ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খোলা রয়েছে। পানির প্রবাহ কমায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, রোববার সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার (৫১ দশমিক ৯৭) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়; যা বেলা ৩টায় ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়।

তিন ঘণ্টায় পানি ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় নদীর পানি ৫২ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়; যা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। এরপর রাত ৮টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ২৭) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়; যা রাত ৯টা থেকে কমতে শুরু করে।

এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অংশের সর্ব উত্তরের সিকিম, জলপাইগুড়ি, ডার্জিলিং, শিলিগুড়ি, সেবক, কোচবিহারসহ বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টি অব্যাহতের খবর পাওয়া গেছে। সেই পানি তিস্তার গজল ডোবা ব্যারেজ দিয়ে ভারতের দোমোহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

রোববার বিকালে তিস্তা নদীর পানি ফের বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুণ্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে ২০ গ্রামে পানি প্রবেশ করে। এসব গ্রামে শত-শত মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে আছে।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় তার ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এসব গ্রামের প্রায় এক হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, তার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, সোমবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করলেও এখনো তিস্তায় বন্যার শঙ্কা যায়নি। ভারতে যেভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, তাতে সামনে বড় বন্যা হতে পারে।

এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এই জনপ্রতিনিধি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status