সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষকদের উপস্থিতির তথ্য অনলাইনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নেটওয়ার্ক সংকটের কারণে আমগাছের মগডালে উঠে অনলাইন হাজিরা দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
ঘটনাটি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৪ নম্বর রূপকারী ইউনিয়নের পাগয্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহেরকে ঘিরে। গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের পাশের একটি আমগাছের ডালে উঠে তিনি অনলাইন হাজিরা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার নেটওয়ার্ক সংকটের বাস্তব চিত্র সামনে আসে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই শিক্ষকের দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রশংসা করেন। তবে অন্যদিকে কেউ কেউ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলেও মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা।
ভাইরাল ঘটনার পর আলোচিত সেই বিদ্যালয়ে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে ভিন্ন কিছু তথ্য। তাদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও অধিকাংশ দিন দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রতিবেদক দুপুর ১টায় বিদ্যালয়ে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো শিক্ষার্থী কিংবা পাঠদান কার্যক্রম দেখা যায়নি। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, নিয়মিত ও পূর্ণ সময় পাঠদান নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বিদ্যালয়ের উপস্থিতি, পাঠদানের সময়সূচি এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সঞ্চায়ন চাকমার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলার কথা। এর আগে কোনো বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে থাকলে এবং এ ধরনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির বিরুদ্ধে শোকজ জারি করে যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করা হবে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।
নেটওয়ার্ক সংকটের কারণে আমগাছে উঠে অনলাইন হাজিরা দেওয়ার ঘটনা যেমন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাস্তব সমস্যাকে সামনে এনেছে, তেমনি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের।