ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ৩ জুন ২০২৬ ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ক্ষুধার জ্বালায় মায়ের সমাধিতে গিয়ে তিন ভাইয়ের খাবার চাওয়ার আকুতি
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Wednesday, 3 June, 2026, 9:09 PM

ক্ষুধার জ্বালায় মায়ের সমাধিতে গিয়ে তিন ভাইয়ের খাবার চাওয়ার আকুতি

ক্ষুধার জ্বালায় মায়ের সমাধিতে গিয়ে তিন ভাইয়ের খাবার চাওয়ার আকুতি

বাড়ির উঠানে মায়ের সমাধিস্থল (ধর্মীয় ভাষায় মঠ)। তার পাশে বসা তিন ভাই। একজনের হাতে প্লেট। মাথা নিচু করে বসে আছেন তারা। তবে তাদের দৃষ্টি মায়ের সমাধিস্থলের দিকে। এ তিন ভাইয়ের শরীরের দিকে তাকালেই বোঝা যায় তারা ক্ষুধার্ত।

স্থানীয়রা জানান, ক্ষুধা লাগলেই মায়ের সমাধিস্থলের দিকে ছুটে যান এই তিন ভাই। যেন প্লেটে ভাত বেড়ে দেওয়ার আকুতি। এই দৃশ্য নিত্যদিনের।

বলছিলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের চাদকাঠী গ্রামের দাসনগর এলাকার বাবা-মা হারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তিন ভাইয়ের কথা। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জন্ম থেকেই নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা তিন ভাইয়ের মধ্যে সাধন দাস দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অন্য দুই ভাই রিপন ও নিদু বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ফলে নিজেদের প্রয়োজন কিংবা কষ্টের কথাও তারা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না।

একসময় বাবা রতন চন্দ্র দাস ও মা সরস্বতী রানীর স্নেহ-ভালোবাসায় কোনোভাবে চলছিল তাদের জীবন। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, অনেক সময় নিজেরা না খেয়েও সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন বাবা-মা। গত বছর মারা যান পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি রতন চন্দ্র দাস। এরপর অসুস্থ শরীর নিয়েও তিন সন্তানকে আগলে রাখেন মা সরস্বতী রানী। কিন্তু দীর্ঘদিন লিভার ও কিডনি জটিলতায় ভোগার পর গত মাসে তিনিও মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর যেন পুরোপুরি ভেঙে পড়ে পরিবারটি।

পাঁচ ভাই-বোনের এই পরিবারের বড় বোন প্রায় ২০ বছর আগে ভারতে চলে যান। আরেক ভাই দিনমজুরের কাজ করে নিজের সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মতো সামর্থ্য তারও নেই।

বর্তমানে প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবারেই কোনোভাবে দিন পার করছেন তারা। কেউ খাবার দিলে খেতে পারেন, না দিলে অনেক সময় উপোসেই কাটে দিন। ক্ষুধার কষ্টে কখনো কখনো তারা খাবারের প্লেট হাতে মায়ের সমাধি চিহ্নের পাশে গিয়ে বসে থাকেন। হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য নাড়া দিয়েছে স্থানীয়দেরও।

প্রতিবেশী সঞ্চিতা পাল জানান, তিন ভাইয়ের মানবেতর জীবন-যাপনের কথা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, একবেলা খাবার খেলে দুই বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। আমরা যদি খাবার না দেই, তাইলে না খেয়ে দিন কাটে। প্রতিবেশীরা তো সব সময় সাহায্য করতে পারে না। সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে তাদের উপকার হতো।

আরেক প্রতিবেশী অমিত বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পরও মা অনেক কষ্ট করে তিন সন্তানকে দেখাশোনা করতেন। কিন্তু মা মারা যাওয়ার পর তারা একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন। এখন তাদের দুই বেলা খাবার দেওয়ার মতো কেউ নেই।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালেহ আহমেদ বলেন, তিন প্রতিবন্ধী ভাইকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ কেজি চাল ও ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের যে সুস্থ ভাই রয়েছেন, তার জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status