|
পাচারের ৩৪ বছর পর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ, দেশে ফিরতে চান চিলমারীর রহিমা বেগম
মোঃ মাহবুবুল হাসান,চিলমারী
|
![]() পাচারের ৩৪ বছর পর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ, দেশে ফিরতে চান চিলমারীর রহিমা বেগম পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রহিমা বেগম ছোটবেলায় দেখতে সুন্দরী ছিলেন। প্রায় তিন যুগ আগে নারী পাচারকারীরা তাকে নাকে রুমাল চেপে অচেতন করে পাকিস্তানে নিয়ে যায় বলে পরিবারের কাছে তিনি জানিয়েছেন। পাচারের পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন। পাকিস্তানে অবস্থানকালে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তাদের বিয়ে হয়। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর আবারও একাকী হয়ে পড়েন রহিমা বেগম। বর্তমানে স্বামীর রেখে যাওয়া এক পালকপুত্র তার দেখাশোনা করছেন বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে রহিমা বেগম বাংলাদেশে থাকা ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের খুঁজেছেন। বহু চেষ্টা করেও এতদিন তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়তেন এবং আল্লাহর কাছে মাতৃভূমিতে ফেরার আকুতি জানাতেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে বসবাসরত চিলমারীর মাজু ইব্রাহীম নামের এক বাংলাদেশির মাধ্যমে রহিমা বেগমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় রহিমা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কণ্ঠ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারেন বলে স্বজনদের আশা। প্রায় তিন যুগ পর নিজের জন্মভূমির মাটিতে পা রাখা, আপনজনদের বুকে জড়িয়ে ধরা এবং জীবনের শেষ সময়টুকু পরিবারের সঙ্গে কাটানো—এখন এটাই রহিমা বেগমের সবচেয়ে বড় ইচ্ছা বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
