কুরবানি ঈদ পরবর্তী চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকাররা সংগৃহীত কুরবানির পশুর চামড়া হাড়িধোয়া, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে সহ বিভিন্ন ময়লার ডাস্টবিনে ও রাস্তার ময়লার পাশে ফেলে দিচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন মাদ্রাসা-এতিমখানার সংশ্লিষ্টরা, তেমনি নদীর পানি দূষণের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের ও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবার ঈদের পর চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম। গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং খাসির চামড়া ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হলেও অনেক পাইকার পরিবহন ও লবণ খরচ তুলতে না পেরে চামড়া ফেলে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন।
হাড়িধোয়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “ঈদের পরের দিন থেকেই দেখছি ট্রলি ভর্তি চামড়া এনে মেঘনার ঘাটে ফেলে দিচ্ছে। পানিতে পচে গন্ধ ছড়াচ্ছে, মাছও মরছে। শীতলক্ষ্যা পাড়ের আরেক বাসিন্দা জানান, চামড়া পানিতে ফেলায় নদীর পাড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবেশ অধিকার কর্মীরা বলছেন, কাঁচা চামড়া নদীতে ফেললে তাতে থাকা লবণ, রক্ত ও পচনশীল বর্জ্য পানির অক্সিজেন কমিয়ে দেয়, যা জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর। নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চামড়া ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অবশ্য বলছে, সরকার নির্ধারিত দামে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনতে না চাওয়ায় তাদের কিছু করার নেই। লোকসান এড়াতে বাধ্য হয়েই ফেলে দিতে হচ্ছে।
এদিকে মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে তারা সারা বছরের খরচ চালায়। দাম না পাওয়ায় তাদের বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, নদীতে চামড়া ফেলা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে এবং যারা এ কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।